নয়াদিল্লি: ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্প চালু করে বার্তা দিতে চেয়েছেন। প্রথমবার মহিলাকে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব। আর লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের ভয়েই নাকি ঘুম উড়েছে মোদীর। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর রিপোর্টে একথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই জোর বাড়ছে বিরোধীদের কন্ঠস্বরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা মায়াবতীর মত পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা আগে থেকে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। তার মধ্যে কংগ্রেস দিল নতুন চমক। রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কাকে দেখে কংগ্রেসের সমর্থকরা বলছেন, ‘ইন্দিরা ইজ ব্যাক।’ দেশের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার মতই দেখতে তাঁর নাতনিকে ঘিরে তাই জাতীয় রাজনীতির জল্পনা তুঙ্গে। আর এরা তিনজনই পালাবদল আনবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী:

হতে পারে তিনি আনকোরা, তবে তাঁর চেহারাই বোধহয় ঘুম ছোটাচ্ছে শাসক শিবিরের। যতই হোক, গান্ধী পরিবারের মেয়ে।

প্রিয়াঙ্কাকে গোড়া থেকেই বড় দায়িত্ব দিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরাও প্রিয়াঙ্কাকে সক্রিয় রাজনীতিতে পেয়ে অনেকটাই উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। ৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর সাদৃশ্য যথেষ্ট। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসকর্মীদের সম্পর্কও নাকি বেশ সহজ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতাও নাকি তাঁর সহজাত। ভোটের আগে প্রিয়াঙ্কাকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে কংগ্রেস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:

প্রিয়াঙ্কার থেকেও মোদী সরকার যাঁকে বেশি ভয় পাচ্ছে তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতেই পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটেছে। এরপর থেকে তিনি এরাজ্যে অপরাজেয়। সব বিধানসভা কিংবা লোকসভায় তাঁর দলেরই জয়জয়কার। লোকসভা ভোটের আগে বিরোধীদের একত্র করার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মতো ৪২ আসনের রাজ্যে মমতার প্রশ্নাতীত প্রভাব কেন্দ্রে কতটা প্রভাব ফেলে সেই প্রশ্নে এখন থেকেই চিন্তিত বিজেপি নেতারা।

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও জোট না হলেও রাহুল বা প্রিয়াঙ্কা মমতার হাত ধরতে পারেন, এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। আর মায়াবতীও মমতার ডাকা ব্রিগেডে তাঁর দলের সাংসদকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

মায়াবতী:

মোদী সরকারের আরও এক চিন্তার কারণ উত্তরপ্রদেশের লড়াকু নেত্রী মায়াবতী। বিএসপি সুপ্রিমো ইতিমধ্যে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে লোকসভা ভোটের জন্য জোট গড়েছেন।

৬৩ বছরের এই দলিত নেত্রী বিজেপিকে সমস্যায় ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ধীরে ধীরে এই জায়গায় উঠে আসা মায়াবতীর সঙ্গে একটা বিশাল সংখ্যক পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর সমর্থন রয়েছে। লোকসভা ভোটের লড়াইয়ে কতটা ছাপ ফেলেন বহেনজি, সেটাই এখন দেখার।