নয়াদিল্লি: দূষণে হাঁসফাঁস করছে দিল্লি। ধোঁয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা রয়েছে রাজধানি। আর এই দূষণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দূষণ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, ‘দিল্লির অবস্থা তো ইমারজেন্সির থেকেও ভয়াবহ। এই ইমারজেন্সির থেকে ওই দিন গুলো(জরুরী অবস্থা) ভাল ছিল।’

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে সোমবার নানা উপায় নিয়ে আলচনায় বসে সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন রাজ্য এবং প্রশাসন দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঠিক মত কাজ করছে না বলেও ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতিরা। সোমবার দিল্লির বাতাসে দূষণের পরিমান ছিল ৪৩৭, দিল্লির কোনও কোনও জায়গায় রবিবার এই সূচকই ছুয়েছিল ৯৯৯। গাড়ি থেকে বেরনো ধোঁয়া ছাড়াও দিল্লির এই প্রবল দূষণের জন্য হরিয়ানা,পাঞ্জাবে ফসল তুলে নেওয়ার পর শস্যের গোড়া পোড়ানোকেই দায়ি করেছে দিল্লি সরকার।

সোমবার পরিবেশ রক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সভাপতি ভুরে লাল সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হলে এই বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। এখানেই দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের নানা উপায় খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লির এই মাত্রাছাড়া দূষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা জানান, হরিয়ানা,পাঞ্জাবের চাষিদের শস্যের গোড়া পোড়ানোর ফলে যে কালো ধোঁয়ার মেঘ সৃষ্টি হয়েছে তাই দিল্লির আকাশ ঢেকে ফেলছে।

এই শুনে রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। হরিয়ানা এই আগাছা পোড়ানো বন্ধ করলেও পাঞ্জাব তা বন্ধ করেনি বলেই জানানো হয় দিল্লি সরকারের তরফ থেকে। এই শুনে বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, ‘আমার চাষিদের প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই। ওরা জানেন এরফলে কি মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে তাও তারা বিরত থাকছেন না।’

এর আগের শুনানিতে দিল্লি এবং কেন্দ্রের সরকারকে রীতিমত তুলোধোনা করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেন, ‘দেশের নেতারা শুধু ভোটের আখর গোছাতেই ব্যস্ত। নিজের জনগণের প্রতি তাঁদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। সবাই শুধু নির্বাচন আর গিমিক করতেই ব্যস্ত।’