লখনউ: আঠারো বছর আগে আজকের দিনেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। ঐতিহাসিক লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি ঘুরিয়ে ব্রিটিশ ঔদ্ধত্যের গালে সপাটে এক চড় মেরেছিলেন ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’। লর্ডসের সেই রোমহর্ষক ফাইনাল থেকে ভারতের প্রাপ্তি ছিল ভুঁড়ি-ভুঁড়ি। ভারতীয় ক্রিকেটে মহম্মদ কাইফ এবং যুবরাজ সিং নামক দুই ব্যাটিং তারকার এক রূপকথার উত্থান দেখেছিল ১৩ জুলাই ২০০২’র লর্ডস।

৭৫ বলে ম্যাচ জেতানো ৮৭ রানের ইনিংস খেলে রাতারাতি নায়ক বনে গিয়েছিলেন এলাহাবাদের ২২ বছরের মহম্মদ কাইফ। ১৮ বছর পর ঐতিহাসিক সেই জয়ের স্মৃতিচারণায় সমানভাবে নস্ট্যালজিক তিনি। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয় নিয়ে বলতে গিয়ে কাইফ বলছেন, ‘ওই জয়টা ভারতীয় ক্রিকেটের পরিসর বাড়িয়ে দিয়েছিল। দেখিয়ে দিয়েছিল যে আমরাও বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে পারি। আমরাও বড় ফাইনাল জিততে পারি। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের অন্যতম বড় জয় হিসেবে এটাকে দেখেছিলেন অনুরাগীরা।’

পাশাপাশি দলকে চ্যাম্পিয়ন করে দেশে ফেরার পরের অভিজ্ঞতাও এই প্রসঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন কাইফ। তিনি বলছেন আমি এমনিতে লাজুক প্রকৃতির। তার উপর দেশে ফেরার পর বাড়িতে মানুষজনের আসা-যাওয়া লেগেই ছিল। তিনি ছোটবেলা থেকেই ঘুড়ি ওড়াতে ভালোবাসতেন। কিন্তু যমুনার তীরে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়েও নিস্তার ছিল না। সবাই তাঁকে অনুসরণ করত বলে জানিয়েছেন ন্যাটওয়েস্ট জয়ের নায়ক।

কাইফ জানিয়েছেন, ‘আমায় হুড-খোলা জিপে চড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। ৫-৬ কিমি রাস্তা আসতে প্রায় তিন-চার ঘন্টা লেগে গিয়েছিল। মালা হাতে হাসি মুখে রাস্তায় লাইন দিয়ে মানুষজন দাঁড়িয়েছিলেন। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ভোটে জেতার পর আমার শহরেই একবার অমিতাভ বচ্চনকে এভাবে জিপে ঘুরতে দেখেছিলাম। ওইদিন আমার নিজেকে অমিতাভ বচ্চনই মনে হয়েছিল।’

এলাহাবাদ ব্যাটসম্যান টুইটারে ওই ম্যাচের স্মৃতিচারণায় ট্রফি হাতে পুরনো এক ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘১৩ জুলাই, ২০০২ লর্ডসে আমরা মাউন্ট এভারেস্টে চড়েছিলাম। দাদা শার্টলেস, যুবি নার্ভলেস, জ্যাক’স সাপোর্ট প্রাইসলেস, মি ফিয়ারলেস। মেমোরিস এন্ডলেস।’ কাইফ স্মৃতিচারণায় আর বলেছেন, ‘পরবর্তীতে পাকিস্তান সিরিজের কথা মনে আছে। যেখানে ৩০০ রান হামেশাই উঠছিল। কিন্তু ড্রেসিংরুমে আমরা শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এই বদলটা ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পরেই এসেছিল।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ