নয়াদিল্লি: এমন ধন্যবাদ জ্ঞাপন সুপ্রিম কোর্টকে আগে কখনও কেউ করেছে কিনা সন্দেহ৷ বাবা মায়ের সমস্যা সমাধানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ দিল বছর দশেকের ছেলে৷ এই নিয়ে সে একটি চিঠিও লিখেছে৷

শুক্রবার বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ ও মোহন এম শান্তানগোদর একটি মামলার সমাধান করেন৷ ৭ বছর ধরে এই মামলা ঝুলেছিল৷ বিচারপতি জোসেফ জানিয়েছেন, ওই ১০ বছরের ছেলেটি যা দিয়েছে, আদালতের কাছে সেটি খুব মূল্যবান সম্পদ৷

আরও পড়ুন: সাতসকালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গুলি চালাল পাকিস্তান

আদালতকে সে একটি হাতে তৈরি কার্ড দিয়েছে৷ সেখানে তার আনন্দ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে৷ বছরের পর বছর ধরে চলা তার বাবা মায়ের সমস্যা ও মামলার নিষ্পত্তি করার জন্য সে আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে৷

কার্ডে লেখা রয়েছে, “ভগবান সবসময় তোমার জন্য কিছু না কিছু রেখে দেয়৷ সব সমস্যার চাবি থাকে৷ প্রত্যেক ছায়ার আলো থাকে৷ সব দুঃখের উপশম হয়৷ প্রত্যেক আগামীর পরিকল্পনা থাকে৷”

আদালত চত্বরে বিচারপতিদের ধন্যবাদ দেওয়ার ঘটনা বিরল নয়৷ বছরের পর বছর ধরে তা চলে আসছে৷ কিন্তু এমন দৃষ্টান্ত কখনও দেখা যায়নি৷ বিচারপতি জোসেফ জানিয়েছেন, ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে ওই ছেলেটির বাবা ও মা আলাদা থাকতেন৷ ১৯৯৭ সালে তাঁরা বিয়ে করেন৷ তাঁদের দুই সন্তানও হয়৷

আরও পড়ুন: ত্রিপুরায় হিন্দু সম্মেলন হওয়ার ফলেই জয় বিজেপির: RSS

কিন্তু ক্রমশ সংসারে অশান্তি শুরু হয়৷ পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিয়ে আসে৷ আদালত তাদের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার হাজার চেষ্টা করেছিল৷ কিন্তু তা ফলপ্রসু হয়নি৷ এরপর দুজনের কাছে সমন পাঠানো হয় তারা যেন সশরীরে আদালতে হাজির হয়৷ অবশেষে তারা আসে এবং বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে আসে৷ ফ্যামিলি কোর্টে তাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না৷

মামলা সুপ্রিম কোর্টে ওঠে৷ মামলাটি দেখে এবং উভয়ের দীর্ঘ বিচ্ছেদে থাকার কারণে, তাদের একটি স্থির সিদ্ধান্তে আসতে বলা হয়৷ এও বলা হয়, তারা যেন কোনও বহিরাগত কারণের দ্বারা প্রভাবিত না হন৷ আদালত জানায়, তাদের দুজনকে ৬ মাস একসঙ্গে থাকতে হবে এমন বাধ্যতামূলক নয়৷ দুজনের সম্মতিতে শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়৷

আরও পড়ুন: গৌরী লঙ্কেশ খুনে গ্রেফতার হিন্দু যুব সেনের প্রতিষ্ঠাতা