বার্লিন:  তীব্র আতঙ্কে গোটা বিশ্বের মানুষ। একের পর এক দেশে করোনা তার ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কান্নার আওয়াজ। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যেই আরামের দিন কাটাচ্ছেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। জার্মানির একটি বিলাসবহুল হোটেলের ‘সেলফ আইসোলশনে’ রয়েছেন তিনি। আর তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পদস্থ কর্মচারীরা।

এখানেই শেষ নয় কিন্তু! তিনি তো রাজা। আর তাই রাজার মতোই থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। আর সেই কারণে থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে রয়েছেন ২০ জন মহিলা। জার্মান ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘বিল্ড’ এমনটাই জানিয়েছে। সেই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন পুরো গ্র্যান্ড হোটেল সোনেনবিচল বুক করেছেন। ৬৭ বছর বয়সী এই রাজার সঙ্গে রয়েছেন ২০ জন মহিলা। শোনা যায়, তাঁদের সঙ্গে নাকি শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত রয়েছেন রাজা।

জার্মান এই পত্রিকা জানাচ্ছে, মহিলারা ছাড়াও রয়েছেন অসংখ্য চাকরবাকর। তবে রাজার সঙ্গে তাঁর চার স্ত্রীর কেউ আছে কিনা তা জানা যায়নি। কিন্তু থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা বিদেশে বিলাসবহুল হোটেলে রাজার এভাবে আলাদা থাকার খবর পেয়ে বেজায় খেপেছেন। তারা থাইল্যান্ডের নিয়ম ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এর কড়া সমালোচনা করছেন।

ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের টুইটারে ‘#হোয়াই ডু উই নিড আ কিং?’ ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। সে দেশের এক মানবাধিকার কর্মী থাইল্যান্ডজুড়ে করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার সময় এভাবে রাজার জার্মানি ভ্রমণের প্রসঙ্গটি তুলেছেন। আর তা তোলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে টুইটারে রাজার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায়।

থাইল্যান্ডের আইনানুযায়ী,রাজাকে কেউ অপমান করলে কিংবা রাজার সমালোচনা করলে তার ১৫ বছরের জেল হতে পারে। এদিকে থাইল্যান্ডে করোনা ভাইরাসে ১ হাজার ৩৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গিয়েছেন ৭ জন। গোটা দেশের মানুষ তীব্র আতঙ্কিত। সেখানে দাঁড়িয়ে সে দেশের রাজার এমন কীর্তি স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, গোটা বিশ্বেই এখন করোনাভাইরাস নিয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি। গোটা বিশ্ব কার্যত লকডাউনের আতায়। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের সব অতিথিশালা এবং হোটেল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, গ্র্যান্ড হোটেল সোনেনবিচলকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

কারণ হিসাবে প্রশাসন জানাচ্ছেন, সেখানকার অতিথিরা ভিন্ন ভিন্ন নয় বরং একক এবং একই গোত্রীয় মানুষজন। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, রাজার পারিষদ্বর্গের আরও ১১৯ জন সদস্যকে এর আগে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সন্দেহে থাইল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয় বলেও শোনা গিয়েছে। এরপরেও কেন খোলা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শুধুমাত্র রাজা বলেই…।