ব্যাংকক: জঙ্গি হানায় রক্তাক্ত থাইল্যান্ড। ভয়ঙ্কর এই জঙ্গি হামলায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গভীর রাতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণ অংশে দুটি চেকপোস্টে হঠাত করে হামলা চালায় জঙ্গিরা। থাই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, গত ১৫ বছরের ইতিহাসে এটাই অন্যতম ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা।

এই হামলার পরেই গোটা থাইল্যান্ড জুড়ে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেটিং। নজরদারি চালাচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, হামলার পর থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়ালা প্রদেশে জঙ্গিদমন অভিযান আরও তীব্র করে তুলেছে থাই সেনা। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পড়ুন আরও- ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’, পশ্চিমবঙ্গকেও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলার দায় নেয়নি কোনও জঙ্গি সংগঠন। তবে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে থাইল্যান্ডের গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বিস্ফোরণের নমুনা। কীভাবে ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখচ্ছেন সে দেশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলার পিছনে রয়েছে ‘বারিসান রেভলুসি নাজিয়নল’ বা বিআরএন নামের জঙ্গিগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী গত কয়েকমাস আগে থাই সরকারের কাছে সমস্ত বন্দি জঙ্গিদের ছাড়ার দাবি জানায়। কিন্তু তা মানতে চায়না সরকার। আর সেই কারণেই এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই জঙ্গি সংগঠনের তরফে এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

জানা গিয়েছে, গভীর রাতে ইয়ালা প্রদেশের দুটি চেকপোস্টে হঠাত করেই হামলা চালায় জঙ্গিরা। অতর্কিত এই হামলায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১২জনের। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও তিনজনের। আহতের সংখ্যা পাঁচ। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। সে দেশের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে যে জঙ্গিরা এম–১৬ রাইফেল ও শটগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। সেখানেই মৃত্যু হয় ১২ জনের।

এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ঘটনা কখনই মেনে নেওয়া হবে না। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের খুঁজে বার করা হবে। শুধু তাই নয়, উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।