মুম্বই: করোনার আতঙ্কে গোটা বিশ্ব। মারণ ব্যাধির থাবায় পর্যদস্তু জনজীবন। থমকে গিয়েছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। নিউ নর্ম্যালে কিভাবে চলবে আমাদের জীবন সেই দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা পৃথিবীর মানুষ। তবে এবার করোনাভাইরাসকে বশে আনতে টেক্সটাইল শিল্প সংস্থাগুলি বর্তমানে ‘অ্যান্টি-করোনার ফ্যাব্রিক’ বিপণন শুরু করেছে।

এতদিন পর্যন্ত সংক্রমণ দূরে রাখতে মাক্সের ব্যবহার করে আসছিল আমজনতা। কিন্তু এবার থেকে পোশাকও হবে অ্যান্টি ভাইরাল। যার ফলে জামাকাপড়ের মাধ্যমে করোনা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন সাধারণ মানুষেরা।

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি বড় বড় শিল্প সংস্থা এমন কাপড় এবং পোশাক চালু করেছে। ওই সংস্থাগুলির দাবি, তাঁদের তৈরি পোশাক এবং কাপড় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা যোগাবে। যদিও কতটা সুরক্ষা যোগাবে সেই সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানায়নি তাঁরা।

এই বিষয়ে ছেলেদের জনপ্রিয় পোশাকের ব্র্যান্ড ‘জোডিয়ক’ তাঁদের একটি বিজ্ঞাপেন দাবি করেছে যে “অ্যান্টি-করোনা ফ্যাব্রিক” করোনা ভাইরাসকে ৯৯ শতাংশ বধ করতে পারে। এছাড়াও দোনার ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়েলস্পুন ইন্ডিয়া, অরবিন্দ, বর্ধমান টেক্সটাইল এবং ডি ’সজ্জার মতো টেক্সটাইল সংস্থা গুলিও আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ভাইরাল সংস্থা গুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পোশাকের পাশাপাশি অ্যান্টি-ভাইরাল কাপড় চালু করেছে এবং এগুলি করোনা ভাইরাসের সঙ্গে কার্যকরী ভাবে লড়াই করবে বলে দাবি করেন তাঁরা।

শুধু জামাকাপড়ই নয়, করোনা রোধক গৃহসজ্জার পণ্যও তৈরি করছে বেশকিছু সংস্থা। সেরকমই একটি টেক্সটাইল সংস্থা হল ‘হাইকিউ গ্রুপ’। সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তাঁদের পণ্য ‘ভাইরব্লক’ প্রযুক্তি মানব করোনভাইরাস ২২৯-ই এবং সারস-কোভিড -২ এর বিরুদ্ধে কার্যকর সেটি প্রমাণিত হয়েছে, যার ফলে করোনা ভাইরাস ৩০ মিনিটের মধ্যে ৯৯.৯৯ শতাংশ হ্রাস পাবে।

কীভাবে ফ্যাব্রিকটি কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে সেই বিষয়ে বর্ণনা করেছেন ডোনার ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেন্দ্র আগরওয়াল। এদিন তিনি বলেন, “ফ্যাব্রিকটি বোনার পরে, এটির ‘অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল’ এবং ‘অ্যান্টি-ভাইরাস’ বৈশিষ্ট্যযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ গুলি কোনও ফ্যাব্রিকের উপর ভাইরাস বসে থাকলে তা দ্রুত নির্মূল করে দিতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, ” বর্তমানে তাঁদের সংস্থায় অ্যান্টি-করোনার ফ্যাব্রিকের বিশাল চাহিদা বেড়েছে। জুন ও চলতি জুলাই মাসে অ্যান্টি করোনার- ফ্যাব্রিকের বিক্রি হয়েছে ৫০ শতাংশ। ডোনার ইন্ডাস্ট্রিজের তরফে আরও বলা হয়েছে যে, অ্যান্টি-ভাইরাল প্রযুক্তিটি কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ল্যাব দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর কার্যকরীতাও প্রমাণিত হয়েছে।

আরেকটি টেক্সটাইল সংস্থা, ‘জোডিয়াক’ এর দাবি, এই ফ্যাব্রিকটি নিরাপদ এবং হাইকুই দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি কোনও মেডিকেল ডিভাইস নয় এবং এটি কেবল শার্ট হিসাবে ব্যবহারের জন্য এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ার বিষয়ে একশো শতাংশ গ্যারান্টি দেয়নি।

যদিও এই বিষয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক সোমদত্ত সিং বলেছেন, “যে কেউ তাদের অ্যান্টি-ভাইরাল ফ্যাব্রিকের জামা-কাপড় বানিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে পারে বলে দাবি করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।” হাইকিউ ভাইরব্লক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কথ তিনি আরও বলেন, “তাঁরা যখন ৯৯.৯৯ শতাংশ সুরক্ষার দাবি করে তা কাপড়ের জন্য নয় বরং কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সমাধানের জন্য দাবি করে।”

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বস্ত্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে এ জাতীয় পণ্যগুলির জন্য কোনও গাইডলাইন নেই। বিশেষজ্ঞরা এই জাতীয় বিপণন দ্রব্যগুলিকে কৌশলগত ভাবে বাজার ধরা এবং বিপজ্জনক হতে পারেও বলে দাবি করেছেন।

নেফ্রন হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডঃ সঞ্জীব বাগাই জানিয়েছেন, এ জাতীয় দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষার বিষয়ে মিথ্যা ধারণা দিতে পারে জনমানসে। তিনি আরও বলেন, “টেকনোলজিকে বিস্তর পরীক্ষা করা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা দরকার। সংস্থাগুলির উচিত গবেষণামূলক উপাদানগুলি জনসাধারণের মধ্যে প্রকাশ করা উচিত এবং এ জাতীয় জিনিস তৈরিতে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ