বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান: উচ্চমাধ্যমিকের পর মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও ব্যাপক বিভ্রাট চরমে উঠল৷ কয়েকদিন আগে উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে পাশের জেলা হুগলিতে৷ হুবহু সেই একই প্রশ্নপত্রে মঙ্গলবার বর্ধমান জেলায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে৷ ফারাক ছিল হুগলি জেলার প্রশ্নপত্রের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রের উপরে লেখা ছিল এইচডিসিএস আর পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রশ্নপত্রের উপরে লেখা রয়েছে বিডিসিএস৷ উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে সেই সময় বুধবার মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র নিয়েও নতুন বিভ্রাট দেখা দিয়েছে৷

এদিন মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষার ইতিহাস পরীক্ষা ছিল৷ প্রশ্নপত্রে ম্যাপ পয়েন্টিং করার কথা ছিল৷ কিন্তু জানা গিয়েছে, এদিন জেলার কোনও স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ম্যাপ দেওয়া হয়নি৷ ফলে চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা৷ জানা গিয়েছে, কোনও কোনও স্কুলে ম্যাপ না দেওয়ায় পরিবর্তে ছাত্রছাত্রীদের সমমানের ৪টি করে সহজ প্রশ্ন দেওয়া হয় যাতে নাম্বারের দিক থেকে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন৷ কিন্তু এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীমহল থেকে অভিভাবকরাও৷ তাঁরা জানিয়েছেন, জীবনের বড় পরীক্ষার আগে এই টেস্ট পরীক্ষা ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতির মান যাচাই করার একটা বড় মাধ্যম৷ সেখানেই ম্যাপ পয়েন্টিং করতে না পারায় ছাত্রছাত্রীরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হল৷ বস্তুত, টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে এই বিভ্রান্তির ঘটনায় অনেক স্কুলই টেস্ট পরীক্ষা বন্ধ করে দেবার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছেন৷ কারণ অনেকেই মনে করছেন পরীক্ষার নামে প্রহসন চলছে৷ তা বন্ধ হওয়াই উচিত৷

উল্লেখ্য, এর আগে এই টেস্ট পরীক্ষা হত বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-র প্রশ্নপত্রে। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এবিটিএ-র প্রশ্নপত্রকে বাদ দিয়ে তৈরি করা হয় তৃণমূল প্রভাবিত ক্লাস্টার প্রশ্নপত্র৷ হুগলী জেলাতেও এই ক্লাস্টার প্রশ্নপত্রেই এবার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে৷ আবার সেই একই ক্লাস্টারের প্রশ্নপত্রে বর্ধমানেও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে৷ যেহেতু হুগলী জেলায় আগেই পরীক্ষা হয়ে গেছে তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসও হয়েছে৷ বুধবারই জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ফিজিক্সের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনেক ছাত্রছাত্রীদের হাতেই চলে এসেছে এদিন হুগলী জেলা থেকে৷ কার্যত হাতে হাতে ঘুরছে এই প্রশ্নপত্র৷ পরপর হুগলী জেলার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বর্ধমানের প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীরাও হুগলী জেলা থেকে ওই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেছে।
বুধবার ছিল উচ্চমাধ্যমিকের ভূগোল পরীক্ষা৷ আজ বৃহস্পতিবার রয়েছে ফিজিক্সের পরীক্ষা৷

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রীতিমত অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের ওপর৷ যদিও জেলার তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের নেতা তথা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জেলা আহ্বায়ক রথীন মল্লিক এব্যাপারে দায় স্বীকার করতে চাননি৷ তিনি জানান, এব্যাপারে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠন কোনোভাবেই দায়ী নন৷ শিক্ষকরাই নিজ নিজ ক্লাস্টার গড়ে এই প্রশ্ন পত্র তৈরি করেন৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে৷ সেক্ষেত্রে হুগলী জেলার সঙ্গে বর্ধমান জেলার প্রশ্নপত্র হুবহু এক হল কিভাবে? আবার শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুসারে কোন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না৷ কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে তাহলেও কিভাবে মিল হল দুই জেলার প্রশ্নপত্রে৷ জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষা দফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন৷ পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষরাও এব্যাপারে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিংবা টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হবে কি হবে না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন চলতি সপ্তাহেই৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।