নয়াদিল্লি: এবার আর কাশ্মীর নয়, দেশে হামলা চালানোর নয়া পথ খুঁজে বের করছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। আর্মি সাদার্ন কম্যাণ্ড, জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস কে সাইনি সোমবার এমনই আশংকার কথা জানান। ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর জঙ্গিরা এবার ভারতের দক্ষিণ প্রান্তের রাজ্যগুলিকে হামলার জন্য বেছে নিতে পারে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইনি জানান, ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরের পথ পেরিয়ে দেশে ঢোকার রাস্তা খুঁজতে শুরু করেছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত নৌকা সেই আশংকাকেই ইঙ্গিত করছে। স্যার ক্রিক এলাকা থেকে এই নৌকাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

সাইনি আরও জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকা খবর রয়েছে, যে এবার হামলা চলার আশংকা রয়েছে ভারতের দক্ষিণ প্রান্তের রাজ্যগুলিতে। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া বেশ কিছু তথ্যসূত্রও সেই আশংকাকে জোরালো করছে। উল্লেখ্য, গোয়েন্দারা জানিয়ে ছিল পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবা ভারতীয় সেনা ছাউনিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে তালিকায় রয়েছে জম্মুর সাম্বা জেলার বারি ব্রক্ষ্মান ক্যাম্প, সাঞ্জওয়ান ও কালুচক সেনা ছাউনি।

জি নিউজের এক সূত্রের দাবি সোপিয়ান হয়ে দেশে ঢোকার চেষ্টা চলছে জঙ্গিদের। সেখান থেকে জম্মুর পথ ধরতে পারে জঙ্গিরা। এদিকে, লস্করের বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিজেদের হিন্দু পরিচয় দিয়ে তামিলনাড়ুতে ঢুকে পড়েছিল বলে খবর মেলে৷ তারপরেই রাজ্য জুড়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ৷ বড় বড় শহরগুলিতে ও থানাগুলিতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়৷ জানানো হয় ছয়জন জঙ্গি রাজ্যে ঢুকে পড়েছে৷ এরা সমুদ্রপথ হয়ে রাজ্যে ঢুকেছে বলে খবর মেলে৷

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সন্ত্রাসবাদীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা যেমন- বিমান বন্দর, মন্দির, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ছাড়াও পর্যটনস্থল এবং সরকারি দূতাবাসের উপরেও হামলা করতে পারে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে দেশের উপকূল বাহিনী, গোয়েন্দা এবং সমস্ত পুলিশ প্রশাসনকে সবসময় হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বড়ধরনের নাশকতা এড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা এবং পুলিশের তরফে যে সমস্ত বিষয় গুলির উপরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে সেগুলি হল, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় লজ, ছোটবড় নৌকা, মন্দির, পর্যটনস্থল, বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন এবং বাসস্ট্যান্ড গুলি। এছাড়াও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশ নিরাপত্তার জন্য আটক করতে পারে৷