ফাইল ছবি

শ্রীনগর: উপত্যকার পরিবেশকে কিছুতেই স্বাভাবিক হতে দিচ্ছে না জঙ্গিরা। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে ঘটেই চলেছে একের পর এক জঙ্গি হামলা। অতি সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফ থেকে উপত্যকার বাসিন্দাদের উপর থেকে নানা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এমনকি, গত শনিবার থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে পুনরায় মোবাইল পরিষেবা চালু করে দেয় প্রশাসন। এই পরিষেবা চালুর আটচল্লিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সত্যপাল মালিকের রাজ্যে ফের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।

সূত্রের খবর, সোমবার রাজস্থানের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত একটি ট্রাক জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলা থেকে আপেল নিয়ে যাওয়ার সময় জঙ্গি হামলার মুখে পড়ে। জানা গিয়েছে, রাস্তায় জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন ওই ট্রাকচালক। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওই ট্রাক চালকের নাম শরিফ খান। সোমবার তিনি শোপিয়ানের একটি আপেল বাগান থেকে ট্রাকে করে আপেল নিয়ে যাওয়ার সময়ে জঙ্গি হামলার শিকার হন। সূত্রের খবর, ট্রাক চালক শরিফ খানের খুনের ঘটনায় দুই জন জড়িত থাকলেও একজনকে এর মধ্যে পাকিস্তানের জঙ্গি বলে প্রাথমিক অনুমান করছে পুলিশ। ট্রাক চালক খুনের ঘটনায় ওই এলাকায় নামানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর সোমবার থেকে কাশ্মীরের দশটি জেলায় পুনরায় মোবাইল পোস্ট পেইড পরিষেবা চালু করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা গুলি খুব তাড়াতাড়ি চালু করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সোমবারের এই হামলা কাশ্মীরকে এই বার্তায় দেয় যে, প্রশাসন যতই উপত্যকাকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করুক এখানে যে এখনও জঙ্গি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিরা যে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত করতে সব সময় সচেষ্ট তা বেশ বুঝতে পারছেন উপত্যকাবাসী।

সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে গোটা উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে তবেই মোবাইল পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি তরফে মনে করা হচ্ছে যে, জঙ্গিদের একটা বড় অংশই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে হামলার ছক কষে। তাইতো মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবার থেকে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এতদিন ধরে সেখানে জনসংযোগের সব রকম পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত কয়েকদিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বিভিন্ন জরুরি পরিষেবাগুলি চালুর ব্যাপারে শিথিল হয়েছিল সরকার। কিন্তু সোমবার ফের জঙ্গি হামলায় ট্রাক চালকের মৃত্যুতে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক ১০ অক্টোবর থেকে পর্যটকদের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের দরজা খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এমনকি কাশ্মীরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের উপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসা।