স্টাফ রিপোর্টার,মালদহ: জঙ্গিদের হাতে বাংলার ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে মালদহ জুড়ে। এই জেলার বহু শ্রমিক কাশ্মীরে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। সেই কারণে আতঙ্কের প্রহর গুনছেন মালদহ জেলার বিভিন্ন পরিবারের বৃদ্ধ বাবা ও মা ও তাদের সন্তানরা। আতঙ্কগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি, রাজ্যে কোনও কাজ না পাওয়ার কারণে জীবন-জীবিকা নির্বাহে রুটিরুজির টানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছে এই রাজ্যের অধিকাংশ বেকার যুবকরা।

সূত্রের খবর, মালদহ জেলার কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, রতুয়া, হবিবপুর সহ একাধিক এলাকার মানুষ রুজির টানে রোজগারের তাগিদে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়। তৃণমূল সরকার এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মোথাবাড়ি থানা এলাকার নয় জন শ্রমিকের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বহুতল বাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া আটকাতে সেই সময় থেকে বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তার কয়েক বছর পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, শ্রমিকদের ৫০হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এবং এই রাজ্যের শ্রমিকরা এই রাজ্যেই কাজ করবেন। কিন্তু তারপরেও ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেনি এখনও।

প্রতিদিনই মালদহ থেকে বহু শ্রমিক ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন কাজের খোঁজে। উত্তরপ্রদেশের ভাদোই এলাকায় কাজে গিয়ে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় মালদহ জেলার মানিকচকের এনায়েতপুর অঞ্চলের পাঁচজন শ্রমিকের। কিন্তু তারপরেও বাংলার শ্রমিকদের সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন – ছট পুজোর সূর্যের উপাসনায় নারকেল ও গামছা বিলি করলেন মমতার মন্ত্রী

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুর,আলিপুর,শেরশাহী,নয়াবস্তি এলাকার পাঁচশোরও বেশী শ্রমিক কাশ্মীরে কাজ করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্ত রয়েছে বহুতল তৈরীর কাজে, কেউবা কাশ্মীরের বিভিন্ন আপেল বাগানে কাজ করেন, আবার কেউ কাঠমিস্ত্রীরও কাজ করছেন ওখানে গিয়ে। স্বাভাবিক কারনেই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে তাদের পরিবার।

এরই মধ্যে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বহুতল থেকে পরে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি রতুয়া-১ ব্লকের ভাদো এলাকার। মৃত শ্রমিকের নাম নাম শেখ তাজুল (৪২) ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাশ্মীরে শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত রাইম শেখের পরিবারের সদস্য সালমা বিবি জানান, এখানে কোনও কাজ নেই। যার ফলে রুজি-রোজগারের টানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের একপ্রকার বাধ্য হয়েই। তিনি আরও বলেন, এমন কিছু সময় গিয়েছে যখন কাশ্মীরে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না বাড়ির লোকেরা। ফলে সেই সময় তাঁদের আতঙ্কে কাটাতে হয়। শুধু তাই নয়, ঘটছে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনাও। তিনি জানান, ‘আমরা ছোট ছোট ছেলে মেয়ে ও বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি’। ‘আমরা চাই তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসুক। কাশ্মীরে যে ঘটনা ঘটে গেল তারপর থেকেই আমরা আতঙ্কে রয়েছি’।

এই বিষয়ে মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের যে সমস্ত শ্রমিক যে রাজ্যে যাচ্ছে সেই রাজ্যের উচিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়া’। ‘আমরা চাই তারা যাতে কর্মস্থলে সুরক্ষিত থাকে’।

জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি বলেন, এই রাজ্যে কোনও কাজকর্ম নেই। রাজ্য সরকারের উচিত এই রাজ্যে কর্মসংস্থানে বাড়ানো। তাহলে ভিন রাজ্যে শ্রমিক যাওয়া অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।