নয়াদিল্লি: তিন ডজনেরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করে দিল ভারত। জঙ্গিদের অ্যাকাউন্ট সন্দেহেই এই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন আটকে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে টাকা লেনদেন হত দেশের ৩৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বন্ধ করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত এই ৩৭টি অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ১২ লক্ষেরও বেশি টাকা ছিল। কালো টাকা সাদা করার কারবার সহ অবৈধ লেনদেন আটকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) সুপারিশ মেনেই এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের অগস্টের মধ্যে ভারত ৩ লক্ষ ইউরোর ৩৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে বলে এফএটিএফ-ও জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আন্তঃসরকারি সংস্থা এই এফএটিএফ। সারা বিশ্বে অবৈধ আর্থিক কার্যকলাপ ঠেকাতেই এফএটিই-র প্রতিষ্ঠা। আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানির পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতও এখন এফএটিএফের সদস্যরাষ্ট্র। নয়ের দশকের শেষ দিক থেকেই কট্টরপন্থী মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে এফএটিএফ। মূলত এই গোষ্ঠীর সুপারিশেই আমেরিকায় মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক আমানত সিজ করেছিল এফবিআই৷ এফএটিএফের মতে, বর্তমান বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ করতে তাদের মদতদাতা রাষ্ট্রশক্তি এবং পৃষ্ঠপোষক সংগঠনগুলিকেও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া প্রয়োজন। তহবিল না থাকলে সন্ত্রাসবাদীরা ঘুরপথে অস্ত্রশস্ত্র পাবে না, পৃষ্ঠপোষকদের তখন মুখোশের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে৷কিন্তু বিশ্বগোষ্ঠীর প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি হতে তারা তখন ভয় পাবে৷ আর তাতে সন্ত্রাসবাদের শক্তি বহুলাংশে কমে যাবে। তুরস্কের আনতালিয়ায় সদ্যসমাপ্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও এ কথা শোনা গিয়েছে। কড়াহাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রথমে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির টাকার উৎস বন্ধ করা দরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এ কথা কেবল মুখেই বলছেন না, ৩৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার মধ্যে দিয়ে তার প্রমাণ মিলল। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর থেকেও বিস্ফোরক কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে একমাত্র তিনিই সরাসরি বলে দেন, জি-২০ভুক্ত অনেক দেশের কাছ থেকেই আইএস আর্থিক মদত পাচ্ছে৷