ব্রাসিলিয়া ও প্যারিস: বিরাটকায় এক অ্যানাকোন্ডা সাপের মতো এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে আমাজন নদী। সেই অববাহিকা জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম বনাঞ্চলের দাবানল তৈরি করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকট। কারণ ৯টি দেশ- ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম, ফরাসি গায়ানা(ফ্রান্স অধিকৃত) জুড়ে ছড়িয়ে এই বনভূমি। দাবানলের পরে একে অপরের বিরুদ্ধে ছুঁড়ে দিচ্ছে গরম বার্তা। বনাঞ্চল ধংসের পিছনে একাধিক দেশের সংস্থা জড়িত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

প্রায় ৫৫ লক্ষ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আমাজন বনাঞ্চল। সেই বনে লেগেছে আগুন, জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছে বিশ্বের ফুসফুস। কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে আকাশ জুড়ে। সেই ধোঁয়ায় তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক সংকট। যার কেন্দ্রে ব্রাজিল সরকার। এই কূটনৈতিক সংকট আগামী জি-৭ সম্মেলনে প্রবল বিতর্ক তৈরি করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই আমাজন বনাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। আর খোদ ব্রাজিলে শুরু হয়েছে সরকার বিরোধী অবস্থান। অভিযোগ, বেশ কিছু সংস্থা আমাজন ধংস করছে জেনেও সরকার নীরব ছিল।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আমাজনের দাবানলের পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের মুখ খোলার কারণ বিরাট বনাঞ্চলটির একটি অংশ পড়ছে দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানা এলাকায়। এটি ফ্রান্স সরকারের অধীনস্থ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন,আমাদের ঘর পুড়ছে যা পুরো বিশ্বের অক্সিজেনের ২০ শতাংশ যোগান দেয়। আগামী জি ৭ সম্মেলনে তিনি এটি প্রথম অ্যাজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করব।

বিবিসি জানাচ্ছে, ধোঁয়ায় ঢেকেছে ব্রাজিলের অন্যতম শহর সাওপাওলো। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য, দাবানলে প্রতি মিনিটে অ্যামাজনের প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার এলাকা পুড়ে গিয়েছে। এটি একটি ফুটবল মাঠের প্রায় দ্বিগুণ। আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু বিরাট ধাক্কা খেতে চলেছে।

এদিকে ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ব্রাজিলের বিভিন্ন পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে পড়েছে সরকার। একইভাবে বাকি ৮টি দেশেও ক্রমে ছড়াচ্ছে ক্ষোভ। ব্রাজিলের পর আমাজন অববাহিকার অন্যতম রাষ্ট্র হল ভেনেজুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি এখানে। আমাজন ধংসের কারণে এই দেশও তেতে উঠতে চলেছে। কলম্বিয়ায়, বলিভিয়া, পেরুবাসীও প্রবল ক্ষুব্ধ।

তবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রেঞ্চ গায়ানাকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ ফ্রান্স। তাদেরই অধীনে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানা। আমাজনের দাবানলে তৈরি হওয়া ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্রমাগত কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের এই বার্তায় বাকি দেশগুলির রাজনৈতিক অবস্থানে লেগেছে দোলা।

পুড়ছে আমাজন। গরম হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি।