স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: টানা চারদিন নিখোঁজ থাকার পর রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হল এক কলেজ ছাত্রীর মৃত দেহ। মৃত কলেজ ছাত্রীর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা জুড়ে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, মালদহ জেলার রতুয়া থানার অন্তর্গত বাহারাল এলাকায়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে রতুয়া থানার সামসি রেললাইনের ধারে দেহটি দেখতে পান ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে খবর দেওয়া হয় রতুয়া থানায়। পরে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে এবং ময়না তদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এদিকে এক কলেজ ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা গ্রামবাসী জানতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে পুলিশের। তাতে চারজন পুলিশকর্মী সহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে রতুয়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং বোমাবাজি করে। তাতেই বেশ কিছু জন আহত হয়। শুধু তাই নয় খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবীতে শনিবার সকাল থেকে মালদহ-রতুয়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

এদিকে মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম মরজিনা খাতুন(২২)। বেশ কিছুমাস আগে রতুয়ার সামসি এলাকার বাসিন্দা পেশায় সৈনিক মহম্মদ আজারুদ্দিনের সঙ্গে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের রেজিষ্টারী ম্যারেজ হয় মাস ছয়ের আগে পরিবারের সম্মতিতে। কিন্তু মহঃ আজারুদ্দিন মোরজিনার বাড়ির এলাকার এক প্রতিবেশী যুবতীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মহঃ আজারুদ্দিন কর্মস্থলে থাকায় মোরজিনা তার বাবার বাড়ি রতুয়ার থানার বাহারাল এলাকা ছিলেন।

গতকাল রাতে সামসি রেললাইনের ধারে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ খুন করা হয়েছে মোরজিনাকে। নিখোঁজের পর রতুয়া থানাতে অভিযোগও করা হয়। তবে পুলিশ নিক্সিয় ভূমিকা পালন করে। কোন খোঁজ করে নি বলে অভিযোগ। পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্ত মহঃ আজারুদ্দিনের এখনও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।