স্টাফ রিপোর্টার, কাঁকিনাড়া: দিনের শুরুতে কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দে ধরা পড়েছিল ভাটপাড়া৷ কিন্তু, বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি ফের ঘোরাল হতে শুরু করে৷

বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি অজয় ঠাকুরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে স্থানীয়রা৷ উত্তেজনা দেখা যায় কাঁকিনাড়া বাজার এলাকায়৷ বিক্ষোভের মুখে ভাটপাড়ায় ঢোকার আগে বাঁধা পান বাম ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলের সদস্যরা৷

আরও পড়ুন: আমডাঙায় খুন বিজেপি কর্মী, পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

শনিবার সকাল থেকে ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া এলাকায় রুট মার্চ শুরু করে পুলিশ৷ তাদের আশ্বাসেই এলাকার দোকানপাটও খুলতে শুরু করে৷ কিন্তু, বেলা ১০টা বাজতেই পুলিশকে দেখে অসন্তোষ বাড়ে এলাকায়৷ কেন ভোটের পরেও দুষ্কৃতীরাজ থামছে না? ডিসি অজয় ঠাকুরের থেকে তা জানতে চায় তারা৷

ইতিমধ্যেই ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া পরিদর্শনে গিয়েছেন বাম ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলের সদস্যরা৷ কিন্তু কাঁকিনাড়া বাজারে ঢোকার মুখে তাদের গাড়িও আটকে যায়৷ ফলে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সুজন চক্রবর্তী ও আবদুল মান্নানকে৷ এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল ও বিজেপিকতে দায়ী করেন তারা৷

এদিকে, ভাটপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বিজেপির তিন সদদ্যের প্রতিনিধি দল৷ তাদের যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাটপাড়াজুড়ে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব়্যাফ৷ নিহত দুই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাবেন গেরুয়া দলের সাংসদরা৷ ফলে, নিহতের বাড়ি লাগোয়া এলাকা খাঁকি উর্দিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে৷ তার মাঝেই ফের পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভে অস্বস্তিতে বারাকপুর কমিশনারেটের বড় কর্তারা৷

আরও পড়ুন: যুদ্ধ চাইলে ইরান ধংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। ওইদিন ভাটপাড়া থানা উদ্বোধনের আগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাটপাড়া। সকাল থেকেই বোমাবাজি হয় ভাটপাড়ায়। সঙ্গে চলে গুলি। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন দুই বিজেপি কর্মী। গুলিতে আহত হন বেশ কয়েকজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভাটপাড়া এলাকা।

ভাটপাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট৷ শনিবার সকালে অবশ্য ইন্টারনেট পরিষেবা ফের চালু হয়৷ যদিও ফের উত্তেজনা দেখা দওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়ার মানুষ৷