স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: এনআরএসকাণ্ডের জের৷ রোগীর পরিবার ও জুনিয়ার ডাক্তারদের খণ্ডযুদ্ধ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে৷ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইঁট বৃষ্টি চলে৷ আহত উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন৷

হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নেহাতই কম৷ ফলে উত্তেজনা পৌঁছায় চরমে৷ ঘটনায় জখম বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও৷ পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে৷

আরও পড়ুন: ধুন্ধুমার কাণ্ড: লালবাজারে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা বিজেপির

এনআরএসে জুনিয়র ডাক্তারদের উপরে হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাজ্যজুড়ে হাসপাতালগুলিতে আউটডোর পরিষেবা বন্ধের ডাক দিন চিকিৎসকরা। জুনিয়র ডাক্তারদের এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে চিকিৎসকদের সাত সংগঠন৷ সেই মতো এদিন সরকারি হাসপাতালগুলির আউটডোর বন্ধ৷

সোমবার রাতে রোগীর পরিবারের লোকজনের হাতে আক্রান্ত হন পরিবহ মুখোপাধ্যায় নামে এক জুনিয়র ডাক্তার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে কলকাতার নিইরো সায়েন্সে ভরতি করা হয়েছে। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। মাথায় গভীর ক্ষত রয়ছে তাঁর৷ প্রতিবাদে সোমবার গভীর রাত থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন৷ স্তব্ধ এনআরএসের স্বাভাবিক পরিষেবা।

এই ঘটনার পর পরই মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কর্মবিরতির ডাক দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন মেডিক্যালের আউটডোরে জড়ো হন রোগী ও তাদের পরিবারবর্গ৷ পরিষেবার জন্য বারবার আবেদন জানালেও জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন৷

আরও পড়ুন: জরুরী পরিষেবা দিয়েই আক্রান্ত আলোপ্যাথি ডাক্তারদের পাশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা

এরপরই ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে রোগীর পরিবারের মানুষদের৷ দুপুর সোযা একটা নাগাদ শুরু হয় ডাক্তারদের সঙ্গে বচসা৷ পরে যা সংঘর্ষের রূপ নেয়৷ একে অপরের দিকে ইঁট হাতে এগিয়ে যান ডেক্তার ও রোগীর পরিবারের সদস্যরা৷ ছোঁড়া হয় ইঁট৷ েতেই আগত হন উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন৷

এদিকে, এদিকে, সোমবার রাতের ওই ঘটনায় এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে মৃতের পরিবার। এন্টালি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ মৃতের এক প্রতিবেশীকে রাস্তায় ফেলে মারা হয়েছে। পাশাপাশি ওই জুনিয়ার ডাক্তারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন এক চিত্রসাংবাদিকও। তবে এখনও নিজেদের দাবিতে অনড় তাঁরা।