নয়াদিল্লি: গোটা টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হয়েও ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ধোনির নিজেকে তুলে আনা। এরপর ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস। ২৮ বছর পর ভারতের বিশ্বজয়। নুয়ান কুলাশেখারার ডেলিভারিতে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির হাঁকানো পেল্লাই ছক্কাটা ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে চিরকালের জন্য। কিন্তু ধোনিকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরে নিয়ে এসে ফাইনাল জয়ের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরই। ৯ বছর পর ফাঁস হল গোপন রহস্য।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সচিন নিজে জানিয়েছেন পরিস্থিতি উপলব্ধি করে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যুবরাজের পরিবর্তে ধোনিকে পাঁচে নামার বার্তাবাহক হিসেবে ড্রেসিংরুমে বীরেন্দ্র সেহওয়াগকে পাঠিয়েছিলেন সচিন। কারণ হিসেবে সচিন জানিয়েছিলেন ওই পরিস্থিতিতে তাঁর মনে হয়েছিল বাঁ হাতি-ডান হাতি কম্বিনেশন বিপক্ষ বোলারদের তুলনায় বেশি চাপে রাখতে পারবে। যেহেতু ক্রিজে ব্যাট করছিলেন গম্ভীর-কোহলি, তাই সচিন নির্দেশ দিয়েছিলেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান আউট হলে যুবি নামবে আর ডান-হাতি ব্যাটসম্যান আউট হলে ধোনি নামবে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে সচিন আরও জানান, যুবরাজ দুরন্ত ফর্মে ছিল ঠিকই। তবে শ্রীলঙ্কা দলে দু’জন ভালো মানের অফ-স্পিনার ছিল। তাই আমার মনে হয়েছিল স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনটা কাজে লাগতে পারে। কিন্তু তিনি জায়গা ছেড়ে ওঠার পক্ষপাতী ছিলেন না। তাই সেহওয়াগকে পাঠিয়েছিলেন ওভারের মাঝে বার্তাটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এরপর বিষয়টি নিয়ে ধোনি-সচিন আলোচনা হয়। ধোনি গিয়ে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনের কথা কোভ গ্যারি কার্স্টেনকে জানান। গ্যারি সবটা শুনে বাইরে থেকে ভেতরে আসে এরপর চারজনের সম্মতিতে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন হয়।

তাঁর প্রস্তাবে গ্যারি আশ্বস্ত হয়েছিলেন বলে জানান মাস্টার-ব্লাস্টার। এরপর কোহলি আউট হতেই ওয়াংখেড়ের গ্যালারি সঙ্গে কোটি-কোটি ভারতবাসীকে অবাক করে ব্যাট হাতে ক্রিজে নেমে পড়েন ধোনি। বাকিটা ইতিহাস। গম্ভীরের ৯৭ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস যদি সেদিন ভারতের জয়ের ভিত হয়, তবে ঢালাইটা অবশ্যই দিয়েছিলেন মাহি। আর নেপথ্যে ২৮ বছর পর ভারতের বিশ্বজয়ের গেমপ্ল্যান ছকেছিলেন বান্দ্রার বাদশা। যা তাঁকে এনে দিয়েছিল কেরিয়ারের অধরা মাধুরি।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV