মুম্বই: খুব কাছ থেকে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলা পরখ করেছেন মাস্টার ব্লাস্টার৷ এর কয়েকদিন পরেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাইশ গজের যুদ্ধে নামার কথা ছিল ভারতের৷ কিন্তু মায়া নগরী আতঙ্কপুরীতে পরিণত হওয়ায় না-খেলেই দেশের ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংরেজ ক্রিকেটাররা৷ পরে যদিও ফিরে এসে ভারতে সিরিজ খেলেছিলেন কেভিন পিটারসেনরা৷ ইংরেজ ক্রিকেটাররা আতঙ্কে দেশে ফিরলেও সেদিন জীবন বির্সজন দিয়ে যাঁরা মুম্বইবাসীদের রক্ষা করেছিলেন, ২৬/১১ দশ পূর্তিতে তাঁদেরকে ফের একবার স্যালুট জানালেন সচিন তেন্ডুলকর৷

২৬ নভেম্বর, ২০০৮৷ কাসভরা যখন ভারতের বাণিজ্যনগরীকে হামলা চালিছে, তখন কটকে ‘ইংরেজ বধে’ ব্যস্ত লিটল মাস্টারের ব্যাট৷ কটকে ভারত ইংরেজদের হারালেও মুম্বই হামলায় ভারত হারিয়েছে ১৬৬ জনকে৷ তাঁদের উদ্দ্যেশে সচিনের টুইট, ‘জীবন শুধু বড় নয়, দীর্ঘ হতে হবে৷ মুম্বইয়ে জঙ্গি হানায় যাঁরা আমাদের রক্ষা করেছেন, তাঁদেরকে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ৷ তাঁরা প্রমাণ করেছেন, যত বিপদ আসুক না কেন, আমরা একজোট হয়ে আতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই করব৷’

মুম্বই হামলার জেরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান সিরিজের শেষ দু’টি ম্যাচ বাতিল করেছিল বিসিসিআই৷ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল টেস্ট সিরিজও৷ কারণ দু’ ম্যাচের সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল এই মুম্বই শহরে৷ ডিসম্বরে ফের ভারতে এসে টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ড৷ কিন্তু তখনও আতঙ্ক কাটিয়ে না-ওটা মায়া নগরীতে বাইশ গজের বিনোদন সম্ভব হয়নি৷ সিরিজের দু’টি টেস্টের ভেন্যুই পরিবর্তিত হয়েছিল৷ প্রথম টেস্ট আমদাবাদের পরিবর্তে হয়েছিল ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল চেন্নাইয়ে৷ আর দ্বিতীয় তথা সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি হয়েছিল মোহালিতে৷ ওয়ান ডে-র মতো টেস্ট সিরিজ জিতে ২৬/১১ শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া৷

মুম্বই হামলার পর কেটে গিয়েছে এক দশক৷ কিন্তু মায়ানগরীতে বুলেটের ক্ষত আজও শুকায়নি৷ জঙ্গি হানায় পাকিস্তানের হাত থাকায় প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ বন্ধ করে দেয় বিসিসিআই৷ যা এখনও অটুট রয়েছে৷ জঙ্গি হানায় মদত দেওয়া দেশের সঙ্গে ক্রিকেটীয় বন্ধুত্ব সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়েছে ভারত সরকার৷ সুতরাং পরে দু’ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার চুক্তি হলেও তা বাস্তয়াবিত হয়নি৷