স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দিন দশেক আগেই হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। অথচ মৃত শিশুর বাড়ির লোক হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কিছুই জানেন না। এই ঘটনার জেরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠল। মৃত শিশুর বাবা বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের লোকজনকে কিছুই জানানো হয়নি। কখনও বলা হয়েছে, সদ্যোজাত ভাল আছে। কখনও আবার মাইকে ডাক না-পেলে আসতে বারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সন্তানের জন্য মা ব্যাকুল হয়ে ওঠায় জানা গেল,  ১৫ জুনই তাঁদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় দেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের এই দাবি মানতে নারাজ সদ্যজাতের বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, সন্তানের মৃত্যু হয়নি। মিথ্যে কথা বলছেন হাসপাতাল কর্তপক্ষ। এরপরই আজ শনিবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ ফেটে পড়েন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন দেবযানী মন্ডল। ২ কেজি ২০০ গ্রামের শিশুটিকে জন্মের পরেই নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা বাবুন মন্ডল। ভাল চিকিৎসার জন্য ১৩ জুন তাকে আর জি করে পাঠান চন্দননগর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দেবযানী চন্দননগরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অ্যাম্বুল্যান্সে সদ্যোজাতকে নিয়ে আসেন বাবুন। তারপর থেকে তিনি হাসপাতালে ছিলেন বলেই দাবি করেছেন বাবুল। কিন্তু তাঁর বাচ্চার চিকিৎসার কোনও আপডেট তিনি চিকিৎসকদের থেকে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বাবুন। এমনকি, তিনি কিছু জানতে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা বিরক্ত হয়েছেন বলেই বাবুনের অভিযোগ।

পরিবারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত মঙ্গলবার আরজি কর হাসপাতালে আসেন সদ্যোজাতের মা, শিশুর জন্য একটি বাটিতে মাতৃ দুগ্ধও পাঠানো হয়। পরিবারের প্রশ্ন, তাহলে সেই দুধ কার সন্তান পান করল? পরিবারের অভিযোগ,
এই নিয়ে এদিন সুপারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, তিনি নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে বলে পাঠান এখন কথা বলতে পারবেন না তিনি।

বাবুন এদিন বলেন, ‘‘দশ দিন ধরে কেউ খোঁজ করছে না দেখে হাসপাতাল কেন বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি?’’ দেবযানী বলেন, ‘‘আমার ছেলে মৃত, বিশ্বাস করি না। ওরা কিছু গন্ডগোল করে এখন এ সব বলছে।’’

বিভাগীয় প্রধান জানান, ১৪ জুন দু’দফায় মাইকে ঘোষণা করার পরও কারোর দেখা পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটে নাগাদ এক পিজিটি সদ্যোজাতের শারীরিক অবস্থা যে সঙ্কটজনক, তা জানাতে ফোন করেন। কিন্তু ফোন বেজে যায়। পরদিন শিশুটি মারা যেতে ফের মাইকে ডাকা হলেও কেউ আসেননি। তখন দেহ মর্গে পাঠিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। এর দিন তিনেক পরে ওই শয্যায় অন্য শিশু ভর্তি হয়। দেবযানী যখন আসেন, তখন সেই শিশুর মা ভেবে তাঁর থেকে বাচ্চার জন্য দুধ নেওয়া হয়।

আজ, শনিবার মর্গে সদ্যোজাতকে দেখানো হবে বলে বাবাকে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাবুন বলেন, ‘‘যার দেহ দেখাবে, ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রমাণ করতে হবে, সে আমারই ছেলে।’’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ