নয়াদিল্লি: গাড়ি পার্কিং নিয়ে শুরু হয়েছিল বিবাদ। যা অচিরেই বড় হিংসায় পরিণত হয়ে যায়। ক্রমেই তা আকার নেয় গোষ্ঠী সংঘর্ষের। আর যার জেরে ভাঙচুর চালানো হল একটি মন্দিরে।

ঘটনাটি জাতীয় রাজধানী দিল্লির চাঁদনি চকের হজ কাজি এলাকার। সেখানের দুর্গা মন্দির গলিতে সঞ্জীব গুপ্ত নামের কে ব্যক্তির বাড়ির সামনে স্কুটার দাঁড় করিয়েছিলেন আয়াস মহম্মদ নামের এক ব্যক্তি। বাড়ির মূল ফটকের সামনে গাড়ি রাখা নিয়েই শুরু হয় বচসা।

আরও পড়ুন- সরকারি হোস্টেলের ছাত্রী গর্ভবতী, চাঞ্চল্য ওডিশায়

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বচসা ক্রমেই হাতাহাতির আকার নেয়। কিছুক্ষণ পরে একদল লোক এসে সঞ্জীব গুপ্তের বাড়ির সামনে হামলা চালায়। বাড়ি লক্ষ্য করে অনেক মদের বোতল ছোঁড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সঞ্জীববাবুর স্ত্রী। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা সঞ্জীববাবুকে মারধর করেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গ৫ত রবিবার রাত থেকে চলা সেই ঘটনার রেশ সোমবার সকালেও জারি ছিল। এলাকায় কয়েকজন গিয়ে ইট ছোঁড়ে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়। সঞ্জীব গুপ্ত এবং আয়াস মহম্মদকে জেরার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২০০ জন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঠিক সেই সময়েই গুজব রটে যে আয়াস মহম্মদ মারা গিয়েছে।

আরও প্রুন- ৩৭০ ধারা তুলে নিলে কাশ্মীর আর ভারতের থাকবে না: ফারুক

এতেই তীব্র হয় হিংসা। একদল উন্মত্ত লোক স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলা চালায়। ভানগচুর করা হয় মন্দিরে। যার জেরে তৈরি হয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আধা সেনাও নামানো হয়। এলাকায় বাইরের লোকেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে দিল্লির চাঁদনি চক এলাকার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডাঃ হর্ষ বর্ধন ওই এলাকায় পরিদর্শনে যান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরে তিনি বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। মন্দির ভাঙার মতো অপরাধের কোনও ক্ষমা হয় না।”

দুই পক্ষের মানুষের কাছে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। অপরাধীরা শীঘ্রই গ্রেফতার হবে এবং শাস্তি পাবে। আপনারা অনুগ্রহ করে এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখুন।”