Demo Pic

ঝাড়গ্রাম: রাজ্যের উপর দিয়ে অসহিষ্ণুতার ঝড় বয়ে গিয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগেই। কিন্তু কে বলে এই বাংলায় সহাবস্থান সম্ভব নয়? সেকথা ভুল প্রমাণিত হয়ে যাবে এরাজ্যেরই এক গ্রামে গেলে। যেখানে হাতে হাত ধরে আছে হিন্দু-মুসলিম। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দরগা আর মন্দির। কয়েক দশক ধরেই চলছে এই ঐতিহ্য। এখানে কোনও আজান কিংবা পুজো নিয়ে বিবাদ নেই। বরং একই সময়ে শোনা যায় মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র আর কোরানের পাঠ।

আরও পড়ুন: ‘হিন্দু ভাইয়ের সঙ্গে রোজা ভাঙতে চাই’ রাজধানীর পথে মুসলিম যুবকের আর্জি

টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামের ঘোড়াধারা গ্রাম এমন দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত। সেখানে পাশাপাশি রয়েছে সৈয়দ গোলাম চিস্ত আর শিব মন্দির। এমনকি এদুটির মাঝে কোনও দেওয়ালও নেই।

প্রত্যেকদিন সন্ধেয় প্রথমে হয় ভজন। তারপর সেই একই লাউডস্পিকারে ঢোল আর হারমোনিয়ামে বাজে কাওয়ালি। শুধু তাই নয়, সেখানে একইসঙ্গে গেরুয়া আর সবুজ পতাকা উড়তে দেখা যায়। যা থেকে প্রমাণিত হয়, এলাকার মানুষের এই সহাবস্থানে কতটা সায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: গরুর লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে হিন্দু-মুসলমান

ওই স্থানের কেয়ারটেকার নারায়ণ চন্দ্র আচার্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ১৯৮৬ তে তিনি তাঁর বাড়িতে একটি শিব মন্দির তৈরি করেছিলেন। এরপর তিনি এক মুসলিম ফকির সৈয়দ গোলাম চিস্তির কথায় খুব অনুপ্রাণিত হন। আর গোলাম চিস্তির মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা ছিল যেন তাঁর দেহ শিব মন্দিরের পাশেই শায়িত করা হয়। ১৯৯৪ তে মৃত্যধ হয় তাঁর। এরপর থেকে গত ২৩ বছর ধরেই চলে আসছে এই রীতি। কোনওদিন কোনও অশান্তি হনি বলেই জানিয়েছেন নারায়ণ চন্দ্র আচার্য। ‘মানুষের এখানে এসে দেখে যাওয়া উচিৎ কিভাবে সম্প্রীতি বজায় রাখা যায়’, এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ক্ষত সারাতে বাদুড়িয়ায় হিন্দু দোকানদারদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন মুসলিম বন্ধুরা

তিনি আরও জানান, কোরানের পাশাপাশি গোলাম চিস্তি গীতা, বেদ এমনকি উপনিষদও পড়তে পারতেন স্পষ্ট সংস্কৃতে। তিনি বলতেন কোরান আর বেদ দুই’ই আসলে আমাদের সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। আর তাতেই অণুপ্রাণিত হন নারায়ণ আচার্য। তবে তাঁর একটাই চিন্তা, তাঁর মৃত্যুর পর কি হবে এই স্থানের। এতটাই সম্প্রীতি বজায় থাকবে তো? দাঙ্গার আগুন থেকে অনেক দূরে এভাবেই শান্তিতে থাকবে তো ঘোড়াধারা গ্রাম?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.