নিউ ইয়র্ক: ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী। বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ে আওয়াজ তুলছেন বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে দেশের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা। তবে সৌদি আরবে তাপমাত্রার পারদ যেখানে পৌঁছেছে, তাতে চিন্তায় পড়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আর সম্প্রতি যে রেকর্ড তাপমাত্রা ধরা পড়েছে, তাতে রীতিমত মাথায় হাত গবেষকদের।

মঙ্গলবার ‘ওয়ার্ল্ড মেটিরিওলজিক্যাল অর্গানাইজেশন’ -এর তরফ থেকে সেই রেকর্ড তাপমাত্রার পরিসংখ্যান দিয়ে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। কুয়েত ও পাকিস্তান- এই দুই জায়গায় এশিয়ার সবথেকে বেশি তাপমাত্রা ধরা পড়েছে। যদিও সেটা এবছর নয়।

২০১৬-র ২১ জুলাই কুয়েতের মিত্রিবা নামে একটি জায়গায় তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছিল ৫৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর ২০১৭-র ২৮ মে পাকিস্তানের তুরবতে তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ১২৮.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৫৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ পর্যন্ত এশিয়ায় রেকর্ড হওয়া তাপমাত্রার মধ্যে এই দুটিই সর্বাধিক। গত ৭৬ বছরে আর কোথাও এত তাপমাত্রা রেকর্ড হয়নি। আর বিশ্বের মধ্যে এগুলি তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালির ১২৯.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এই লিস্টে নেই। কারণ ওই জায়গা আগে এর থেকেও বেশি গরম ছিল। ১৯১৩-তে ডেথ ভ্যালিতে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। তবে সেই তাপমাত্রা আদৌ কতটা কার্যকরী ছিল, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিজ্ঞানীদের।

কুয়েত ও পাকিস্তানের পরই রয়েছে তিউনিশিয়ার কেবিলি। ১৯৩১ সালে সেখানে ১৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। সেটাই আফ্রিকার সর্বাধিক তাপমাত্রা।

এবছর কুয়েতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা থাকছে ৬৩ থেকে ৬৪ ডিগ্রির কাছাকাছি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নাকি এটাই। একদিকে চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রা অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে চলছে তাপপ্রবাহ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলছে তাপপ্রবাহ। বিশেষ দরকার ছাড়া দিনের বেলাতে রাস্তায় বেরনো কার্যত বন্ধই করে দিয়েছেন সেখানকার মানুষ।

ইতিমধ্যে প্রবল এই দাবদাহে এখনও পর্যন্ত ১২জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, সবারই হিটস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কা এমন যদি আরও কয়েকদিন চলতে থাকে তাহলে আরও মানুষের মৃত্যু হবে।

গলফ নিউজ জানাচ্ছে, দিনের বেলাতে কুয়েতে তাপমাত্রা থাকছে ৬৩ থেকে ৬৪ ডিগ্রির কাছাকাছি। তবে একটু রোদ কমলে তা কিছুটা নেমে যাচ্ছে। তবে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। বিকেলের দিকে সেখানকার তাপমাত্রা থাকছে ৫২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। যা মোটেই সুখকর নয়। সৌদি আরবের আল-মাজমা শহরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, কুয়েত আর সৌদি আরবের এই অসহনীয় তীব্র দাবদাহের হাত থেকে শিগগিরই মুক্তির উপায় নেই। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এবার কুয়েতের গ্রীষ্মকাল বেশ দীর্ঘ হতে চলেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সে দেশের তাপমাত্রা ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সেই সময়ে কি অবস্থা হতে পারে তা এখন থেকেই ভয়ে মানুষজন। সৌদি আরবের সরকারি আবহাওয়া ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কাতার, বেহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আঘাত হানবে প্রবল এই দাবদাহ। ইরাকের মেসান প্রদেশে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হযেছে ৫৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।