মস্কো: দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ৷ সবুজ গালিচায় বল গড়ানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ফুটবলবিশ্ব৷ যে বল পায়ে মেসি-রোনাল্ডোরা বিশ্বকাপ মাতাবেন, একনজরে জেনে নেওয়া যাক সেই বলের কিছু খুঁটিনাটি৷

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলের নাম টেলস্টার ১৮৷ অর্থাৎ ব্রাজুকা থেকে টেলস্টারে বিবর্তন৷ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হয়েছিল ব্রাজুকা৷ ১৯৭০ বিশ্বকাপের বল টেলস্টার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বলের নকশা করা হয়েছে৷ চলতি বছর টেলস্টারের ৪৮তম জন্মবার্ষিকী৷ ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও ছিল ওই বল। দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরিয়ে আনা হল টেলস্টারকে। ১৯৩০ উরুগুয়ে বিশ্বকাপের তিয়েন্তো থেকে ২০১৮ টেলস্টার, বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে বিবর্তন হয়েছে অনেক৷ ব্রাজুকার মতো টেলস্টার তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের শিয়ালকোটে৷

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের নবম আসরে প্রথম ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার সঙ্গে বল তৈরির ব্যপারে চুক্তি করে অ্যাডিডাস। ১৯৬২ সালে আমেরিকার ফ্লোরিডায় টেলেস্টার নামে একটি স্যাটালাইট স্টেশন চালু হয়। যেটি আবহাওয়া ও টর্নেডোর পূর্বাভাস সম্প্রাচার করত৷ জনপ্রিয় সেই নাম থেকেই টেলস্টার নামটি ধার করে বিশ্বকাপ বলের নাম দেওয়া হয় টেলস্টার৷

ইতিমধ্যেই এই বল মাঠে গড়ানোর আগে তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে৷ মেসির মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার টেলস্টারকে ফুলমার্কস দিয়েছেন৷ গুণগত মান থেকে শুরু করে ডিজাইন আর্জেন্তাইন রাজপুত্রের হৃদয় কেড়েছে৷ গত বছর ৯ মে রাশিয়া বিশ্বকাপের বলের অফিসিয়াল লঞ্চ অনুষ্ঠানে টেলস্টারের প্রশংসা করেন মেসি৷ আকারে ছোট ও হাল্কা হওয়ায় ফরোয়ার্ডরা এই বল থেকে বিশেষ সুবিধা পাবেন বলেই অভিমত লিও’র৷৷

গোলকিপাররা অবশ্য টেলস্টার নিয়ে না-খুশ৷ টেলস্টারে গোলরক্ষকদের সমস্যা দেখছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক পেপে রেইনা। রাশিয়া বিশ্বকাপে দূর থেকে শটে অনেক গোল হবে বলে মনে করেন এই গোলরক্ষক৷ রেইনারের মত, ‘বাজি ধরে বলতে পারি, বিশ্বকাপে ৩৫টির বেশি গোল হবে দূর থেকে৷ গোলরক্ষকদের জন্য এই বল কঠিন হবে বলে মত রেইনার, ‘বলটা প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো। এই কারণে বল ধরাটা অনেক কঠিন হবে।’ প্রীতি ম্যাচে বিশ্বকাপের বল টেলস্টারে খেলে জার্মানির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে স্পেন৷