হায়দরাবাদ : তেলেঙ্গানা পুলিশের জালে ধরা পরল সিরিয়াল কিলার। বহুদিন ধরেই খোঁজ চালাচ্ছিলেন পুলিশ কর্তারা । অবশেষে সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৮ বছরের নাবালিকাকে এক সপ্তাহ ধরে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়া গভীর কুয়োয় মিলল কঙ্কাল। সেই কঙ্কাল উদ্ধার করতে গিয়েই হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানার হাজিপুর। দেখা গেল, কুয়োর ভেতর জমে রয়েছে আরও দুটি কঙ্কাল।

হায়দরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হাজিপুর। এই গ্রামেই বাস ২৭ বছর বয়সী মারি শ্রীনিবাস রেড্ডির। তিনি একজন লিফট মেকানিক। কিন্তু কেউ জানতে পারেনি সিরিয়াল কিলিংয়ের মত ভয়ঙ্কর ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে সে।

সালটা ২০১৫, প্রথম সিরিয়াল কিলিং-এর ছক কষে শ্রীনিবাস। পুলিশ জানিয়েছে, সেই বছরের মার্চে এক যৌনকর্মীকে খুন করতে চেয়েছিল রেড্ডি। এরপর পরের মাসেই এপ্রিলে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করে শ্রীনিবাস। ঠিক একইভাবে ১৪ বছরের একটি মেয়ে ও সব শেষে ১৮ বছরের একটি মেয়েকে খুন করে শ্রীনিবাস। ৩ নাবালিকাকেই খুন করে ৫০ ফুট গভীর কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জেরায় স্বীকার করেছে রেড্ডি।

খুনের কথা স্বীকার করায় এই তিন খুনকেই সিরিয়াল কিলিং হিসেবে ধরছে পুলিশ। এক সপ্তাহ আগে তেলেঙ্গানার বম্মালালারারম মণ্ডল গ্রামে ১৮ বছর বয়সী এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী নিখোঁজ হন। খোঁজ চলতে থাকে। এরপর তেলঙ্গানার হাজিপুরে কুয়োর ভেতর আরও দুই লাশের মাঝেই তার দেহাংশ মিলেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট বলছে, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে ওই তরুণীকে। পুলিশের কাছে অবশ্য একথা স্বীকার করে নিয়েছে শ্রীনিবাস।

শ্রী নিবাস জানায়, “১৪ বছরের ওই মেয়েটিকে গাড়িতে লিফট দেবার প্রস্তাব দিই। সে রাজি হলে তাঁকে নিয়ে হাজিপুর আসি। সেখানেই ওকে ধর্ষণ করে কুয়োয় ফেলে দিই।” কুয়োর মধ্যে থেকে একটি স্কুল ব্যাগও পাওয়া গিয়েছে।

ডিসিপি নারায়ণ রেড্ডির কথায়, শ্রীনিবাস এই একই পদ্ধতিতে মেয়েদের লিফট দেবার নাম করে নিজের ডেরায় এনে ধর্ষণ করত। তারপর তাদের খুন করে তাদের কুয়োয় ফেলে দিত। গত সপ্তাহে ১৪ বছরের মেয়েটির দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সম্প্রতি কর্ণাটকে ঘটে যাওয়া একটি খুনেও সে জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।