পাটনা: রাজ্যে কার্যত মহামারির আকয়ার নিয়েছে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস। এই অবস্থায় খোঁজ নেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের। এই অবস্থায় দলের প্রবীণ নেতার রোষের মুখে পড়তে হল তাঁকে।

রাজ্যে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা তেজস্বীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কি করছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান তেজস্বী? লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ জোটকে পরাস্ত করতে বিহারে মহাজোট গঠন করেছিল আরজেডি। সেই মহাজোটের ভরাডুবি ঘটেছে নির্বাচনে।

আরও পড়ুন- তল্লাশির নামে মানুষের ওপর হামলা করছে পুলিশ: ভাটপাড়া পুরপ্রধান সৌরভ

এই অবস্থায় বুধবার তেজস্বীকে নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রবীণ আরজেডি নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিং। শিশু মৃত্যু নিয়ে যখন রাজ্য উত্তাল তখন তেজস্বী কোথায়? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানি না উনি(তেজস্বী) কোথায় আছেন। মনে হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছেন। আমি সঠিক বলতে পারব না।”

বিহারে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোমে (এইএস) বা ‘চমকি বুখারে’ আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিনে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ কেবলমাত্র মুজফফরপুর জেলা থেকেই ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে৷ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বৈশালীতে ১২ জন, বেগুসরাইয়ে ৬ জন, সমস্তিপুরে ৫ জন এবং মোতিহারি ও পাটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত শিশুদের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে৷

আরও পড়ুন- বিধান ভবনের নিরামিষ খাবারে মাংস, তদন্তের নির্দেশ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর

এই সমগ্র ঘটনার দায় নিয়ে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেছেন আরজেডি নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিং। তিনি বলেছেন, “চালকের আসনে বসে গাড়ি না চালাতে জানলে হবে? রাজ্যের চালক হলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে এই শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী কে?” দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের হাসপাতালগুলির বেহাল দশা। তবুও নীতিশের প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেছেন রঘুবংশ। সেই কারণে নৈতিকতার দিক থেকে বিচার করে জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন রঘুবংশ প্রসাদ সিং।

আরও পড়ুন- যোগীকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট: দেশদ্রোহীতার মামলা জনপ্রিয় ব়্যাপারের বিরুদ্ধে

আরজেডি প্রতিষ্ঠাতা লালু প্রসাদ যাদব পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় শ্রীঘরে রয়েছেন। এই অবস্থায় জ্যেষ্ঠ পুত্র তেজস্বীর উপরেই রয়েছে যাবতীয় দায়িত্ব। মহাজোটে ভর করে রাজ্যের ক্ষমতা পেয়েও তা বছর খানেকের মধ্যে খোয়া গিয়েছে। এরপরে লোকসভা নির্বাচনেও মারাত্মক ভরাডুবি ঘটেছে দলের। লোকসভার ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে বিশেষ দেখা যায়নি বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীকে।