পাটনা: কি এমন ঘটল যে, রেগে গিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়লেন ঐশ্বর্য ? হঠাৎ’ই বা কেন ভর দুপুরে বাড়ির বউ কাঁদতে কাঁদতে বিষণ্ণ মুখে বাড়ি ছাড়লেন? সেই ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু না জানা গেলেও ঐশ্বর্যের দাম্পত্য জীবন যে সুখের কাটচ্ছিলো না তা আজকের ঘটনায় বেশ ভালো ভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

তবে ইনি সেই বচ্চনভিলার ঐশ্বর্য রাই বচ্চন নন। এই ঐশ্বর্য হল বিহারের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তেজপ্রতাপ যাদবের বউ। তথা বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের পুত্রবধূ। শুক্রবার দুপুরে লালু প্রসাদের বাড়ি থেকে চোখের জল ফেলতে ফেলতে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। পড়নে ছিল হলদে রঙের স্যুট। হন্তদন্ত বেরিয়ে আসছে লালু প্রসাদ যাদবের বৌমা তখনও ছিল তাঁর দু- চোখ ভরা জল এবং মুখ ঢাকা ছিল বিষণ্ণতায়।

শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা থাকে উঠতে দেখা যায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে। মনে করা হচ্ছে গাড়িটি তাঁর বাপের বাড়ি থেকেই এসেছে। মেয়েকে নিয়ে যেতে এই গাড়িটি পাঠিয়েছেন ঐশ্বর্যের বাবা তথা আরজেডি বিধায়ক চন্দ্রিকা রাই। তবে ঠিক কি কারনে ঐশ্বর্য শ্বশুরবাড়ি ছাড়লেন সেই কারন এখনও স্পষ্ট নয় কারও কাছে।

জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের মে মাসে লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবের সঙ্গে বিয়ে হয় আরজেডি দলের বিধায়ক চন্দ্রিকা রাইএর মেয়ে ঐশ্বর্যর। কিন্তু বিয়ের ছয় মাসের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করে তেজপ্রতাপ। মামলায় তিনি ঐশ্বর্যকে তাঁদের পরিবারের অশান্তির কারন হিসাবেও উল্লেখ করেন। তিনি যে বিবাহিত জীবনে খুব একটা সুখি ছিলেন না ঐশ্বর্যকে নিয়ে তাই এই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যাদব-পুত্র।

এই বছর অগস্ট মাসে যাদব- পুত্রবধূ গারস্থ্য হিংসা নিয়ে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঐশ্বর্য অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী তেজপ্রতাপ যাদব একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ।শুধু তাই নয় পারিবারিক আদালতে অভিযোগ করে সেই সময় ঐশ্বর্য জানিয়েছিলেন যে, তাঁর স্বামী তাকে সবসময় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে খোটা দেয়। এমনকি তেজপ্রতাপ ঐশ্বর্যকে এই কথাও জানিয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র পরিবার তৈরি এবং রান্নাবান্না করার জন্যই তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। প্রসঙ্গত, স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলেও শ্বশুরবাড়ি ছেঁড়ে চলে যাননি ঐশ্বর্য। এতদিন ধরে বিহারের যাদব পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন তিনি।