পাটনা: খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবকে৷ বুদ্ধগয়ার একটি হোটেলের ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি৷ এই ঘটনায় হুলুস্থুলু পড়ে গিয়েছে যাদব পরিবারে৷ যদিও সূত্রের খবর, ইচ্ছা করেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তেজ৷ হোটেল ও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে নাকি লালুর বড় ছেলে পালিয়ে গিয়েছেন৷ তবে এখনও অবধি তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি৷

আরও পড়ুন: ১০০ মুসলিম মহিলাকে পদে আনছে রাজ্য বিজেপি

সম্প্রতি তেজপ্রতাপ বাবা লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে দেখা করতে পাটনা থেকে রাঁচি যান৷ রাঁচির জেলেই এখন বন্দি পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত আরজেডি সুপ্রিমো৷ বাবার সঙ্গে দেখা করার পর বুদ্ধগয়ার একটি হোটেলে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তেজ৷ সেই হোটেল থেকেই গায়েব হয়ে যান তিনি৷ আরজেডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফোনে কথা বলতে বলতে হোটেল রুম থেকে বের হন তেজ৷ তারপর হোটেল ও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের চোখে ধুলো গিয়ে পিছনের রাস্তা দিয়ে গাড়িতে করে পালিয়ে যান৷ অনুমান, তিনি উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে চলে গিয়েছেন৷

বেশ কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে খবরের শিরোনামে তেজ৷ কয়েকদিন আগেই ছ’মাসের বিবাহিত জীবনে ইতি টেনে স্ত্রী ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেছেন৷ বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসাবে তেজপ্রতাপের আইনজীবী জানান, দু’জনে সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মের মানুষ৷ তাদের মধ্যে কোনও মিল নেই৷

তেজ নিজেও জানিয়েছেন, ঐশ্বর্যকে বিয়ে করার পর তাঁর জীবন দমবন্ধকর হয়ে আসে৷ লালুর বড় ছেলে জানান, তিনি খুব সাধারণ মনের মানুষ৷ অপরদিকে ঐশ্বর্য অনেক আধুনিক৷ তিনি ডিভোর্স চেয়ে মামলা করেছেন কারণ তাদের দু’জনের মধ্যে কোনও মিল নেই৷ দমবন্ধ হয়ে আসছিল৷ এইভাবে দমবন্ধ হয়ে মরে যাওয়ার তো কোনও মানে হয় না৷

আরও পড়ুন: যে দেশ ৩০০০ কোটির মূর্তি বানায়, তাদের সাহায্য করা উচিৎ নয়: ব্রিটেন

তেজ যাতে এই চরম সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তার জন্য পরিবারের তরফে অনেক বোঝানো হয়৷ এমনকী যেদিন তিনি বাবার সঙ্গে জেলে দেখা করতে যান সেদিনও লালু তাঁকে অনেক বোঝান৷ কিন্তু তেজ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন৷ আগামী ২৯ নভেম্বর তেজপ্রতাপ যাদব ও ঐশ্বর্য রাইয়ের বিবাহবিচ্ছেদের মামলার শুনানি আছে৷