পাটনা: বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অভিযোগ তুললেন তেজ প্রতাপ যাদব৷ সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, পরিবার ও দলের কারোর সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই৷ বিজেপি ও আরএসএস চক্রান্ত করে এই সব ভুয়ো খবর রটিয়ে বেড়াচ্ছে৷ তারাই তেজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন৷

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন লালুর বড় পুত্র৷ সেখানে রাজনীতি ছাড়ার জন্য কিছুটা হলে রাবড়ী দেবীকেও দায়ী করেছেন তিনি৷ মায়ের বিরুদ্ধে অভিমান করে জানিয়েছেন, দলে তাঁর অভাব অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনা হয় না৷ মা রাবড়ী দেবী তাঁকেই ধমকে চুপ করে দেন৷ এই অবস্থায় তাঁর পক্ষে দলে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে৷

এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই বিহারের রাজনীতিতে জোর জল্পনা ছড়ায়৷ যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়৷ তেজ দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনও পোস্ট করেননি৷ বলেন, ‘‘তেজস্বী আমাকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানিয়েছে৷ আমি কেন এরকম লেখা লিখতে যাব? দলে সব ঠিক আছে৷ কোনও বিরোধ৷ বিজেপি ও আরএসএস আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই কাজ করেছে৷ ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব আমি৷’’

ওই ফেসবুক পোস্টে অনেক বিস্ফোরক কথা লেখা হয়েছিল৷ তেজ সেখানে অভিযোগ করেন, ওম প্রকাশ যাদব ও বিধায়ক সুবোধ কুমার রাই তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করে চলেছে৷ এই নিয়ে রাবড়ী দেবী ও লালু প্রসাদকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ রাবড়ী দেবী তো তাঁকে বকাঝকাও করেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি ওম প্রকাশ ও সুবোধ রাই আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন ও জোরু কা গুলাম বলে চারিদিকে প্রচার করে বেড়াচ্ছে৷’’ ফেসবুকে তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব হয়ে উঠছে না৷ তেজ জানাতে ভোলেননি, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের চাইলে সহজেই ঠান্ডা করে দিতে পারেন৷ কিন্তু তাঁর কাছের মানুষই সেটা করতে বারণ করেছে৷ যদিও কিছুক্ষণ পরই পোস্টটি ডিলিট করে দেন৷

এই প্রথম নয়৷ এর আগেও তিনি দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন৷ বলেছিলেন, ‘‘দলের কিছু বরিষ্ঠ নেতা যুব নেতাদের পাত্তাই দিচ্ছে না৷’’ এরপরই জোল জল্পনা বাঁধে লালুর সুখের সংসারে চিড় ধরেছে৷ পরে ছোট ভাই তেজস্বী সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সব ঠিক আছে৷ দলের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই৷ তবে তেজস্বী একথা জানালেও দলের একাংশ জানিয়েছে, তেজস্বীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন তেজ৷ লালুর জেল যাত্রার দলের হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন তেজস্বীই৷ তিনিই বকলমে আরজেডি পরিচালনা করে চলেছেন৷ দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তেজস্বী৷ তাঁর মধ্যে অনেকেই লালুর ছায়াই দেখতে পান৷