কলকাতা ২৪x৭: জল হোক বা পানি, তিস্তা নিয়ে সীমান্তের এপার ওপারে নির্বাচনী ইস্যু গরম হয়েই থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কাঁটা হয়ে থাকছে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে একেবারে জ্বলন্ত ইস্যু হয় তিস্তা। সীমান্তের এদিকে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ফল্গুধারার মতো নির্বাচনে বইতে থাকে হিমালয়ের হিমবাহ গলিত জলধারা।

ভোট এসেছে বঙ্গে। তার সঙ্গে ভেসে এসেছে তিস্তার চুক্তিনামার শর্ত। সেই শর্ত নিয়ে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের অনবরত চাপের মুখে ভারতের এনডিএ সরকার। দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে লকগেট হয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গরমের সময় অর্থাৎ শুখা মরসুমে তিস্তার জলস্তর কম থাকায় মমতা নারাজ জল পাঠাতে।

উত্তরবঙ্গের ভোট লড়াইয়ে স্থান করে নিয়েছে সর্বাধিক আলোচিত আন্তর্জাতিক তিস্তা জলবন্টন চুক্তি। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ সরকারের অন্দরমহলে গুঞ্জন, যদি পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হয় তাহলে দ্রুত এই চুক্তি সম্পাদন হবে।

সিকিম থেকে বেরিয়ে এসে তিস্তা উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলা কালিম্পং, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি পার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সেই অর্থে এই নদী হলো আন্তর্জাতিক জলপ্রবাহের আওতায়। স্বাভাবিকভাবেই তিস্তার জলের উপর দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তিস্তার জলের ৪২.৫ শতাংশে ভারতের ও ৩৭.৫ শতাংশ বাংলাদেশের অধিকারে রয়েছে।

‘৮০ এর দশক থেকেই ইস্যুটি আলোচিত। মাঝে হয়ে গিয়েছে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি। বঙ্গে তখন বাম শাসন ছিল। প্রতিবেশির প্রতি কূটনৈতিক ভূমিকায় সফল হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কাছে প্রতিবেশির আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজি নন জল বন্টনে। প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতির শেষ সময়কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিতে জলবন্টন সম্ভব নয় তা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বারবার বিজেপির প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সূত্রের খবর, তিস্তা জলবন্টন ইস্যু নিয়ে তিনি সরব হতে চলেছেন ঢাকায় তাঁর আসন্ন সফরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মোদীর ঢাকা সফর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা থাকবে, এমনই মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, তিস্তা চুক্তি না হওয়াটা একটা দুঃখজনক বাস্তবতা। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে । তাদের কারণে চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার বার্তা দিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিক্রিয়া দেয়নি। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে চলছে গুঞ্জন। মনে করা হচ্ছে, উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে মুখ খুলবেন।

কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতায় লক্ষ লক্ষ কৃষকের অবস্থান, বিক্ষোভ চলছেই। বিরোধী কংগ্রেস, বামপন্থীরা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন করেছেন। বিক্ষোভকারী কৃষদের যৌথ মঞ্চ কিষাণ সংঘর্ষ সমিতির হুঁশিয়ারি পশ্চিমবঙ্গেও হবে তীব্র কৃষক আন্দোলন। সূত্রের খবর,বিজেপি বিরোধী এই আন্দোলন শুরু হলেই তৃণমূল কংগ্রেস উত্তরবঙ্গের তিস্তা সংলগ্ন জেলাগুলির নির্বাচনী প্রচারে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুক্তিতে রাজি নন তার পাল্টা প্রচারে নামবে।

ফলে নির্বাচনে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি হতে চলেছে নজরকাড়া ইস্যু। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে গত লোকসভা ভোটে মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেটি চিন্তার কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজধানী শিলিগুড়িতে কোনও প্রশাসনিক শক্তিই নেই তৃণমূলের। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি বিধানসভাটি সিপিআইএমের দখলে। স্থানীয় পুর নিগম বামেদের কব্জায়। আর জেলার পার্বত্যাঞ্চলে গোর্খা সংগঠনের উপর ভরসা করা ছাড়া উরায় নেই তৃণমূলের।

বিধানসভা ভিত্তিক এই সমীকরণ চিন্তার কারণ মমতার কাছে। তার সঙ্গে অবধারিতভাবে আসছে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির আন্তর্জাতিক চাপ। ভোট যুদ্ধের মুখে এসব নিয়ে থিরথির করে বয়ে চলেছে তিস্তা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।