ব্যাঙ্কক: ভারতে কড়া হয়েছে ট্রাফিক আইন। দেশ জুড়ে নতুন ট্রাফিক আইন চালু হওয়ার পর থেকেই সামনে এসেছে একের পর এক বড় অঙ্কের জরিমানার খবর । এমনকি গরুর গাড়িকেও চালান ধরানো হয়েছিল মোটর ভেহিকল অ্যাক্টে । কিন্তু জোরে গাড়ি চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কেউ জন্মদিনের কেক খেয়ে বাড়ি ফিরছে। কখনও এমন শুনেছেন? গল্প নয় এমনই হয়েছে থাইল্যান্ডে এক কিশোরের সঙ্গে।

রাস্তায় গাড়ির স্পিডলিমিটের থেকেও বেলাগাম ভাবে ঊর্ধ্বশ্বাসে বাইক চালানোর জন্য এক কিশোরকে ধরে ব্যাঙ্কক ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে জরিমানা না করে  উল্টে কেক খাওয়ালেন এক পুলিশকর্মী । এই কাহিনিই এখন ফেসবুকে রীতিমত ভাইরাল। ফেসবুকের যে পেজে এই ছবি-সহ ঘটনার কথা প্রথমে পোস্ট করা হয়েছিল, সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সেই ছবি ও ভিডিয়ো। এর পর ফেসবুকেই অন্য একটি পেজে গোটা ঘটনা নিয়ে আরও একটি বিস্তারিত পোস্ট করা হয়।

ফেসবুকে ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, হেলমেট, নম্বরপ্লেট ছাড়াই ওই কিশোর বাইক ছোটাচ্ছিল। তার গতিও ছিল যথেষ্ট বেশি। কিছুদূর যেতেই তাঁকে আটকায় পুলিশ। পথ আটকে পুলিশ ধরতেই হঠাৎ সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ওই পুলিশকর্মী প্রথমে ভেবেছিলেন, জরিমানার ভয়ে সে কান্নাকাটি শুরু করেছে। কিন্তু কিশোরের এমন অঝোর কান্না দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। জিজ্ঞেস করায় সে এবার সব কিছু খুলে বলে। পুলিশ জানতে পারে সে দিন তার জন্মদিন ছিল, কিন্তু বাড়ির সবাই সেটা ভুলে গিয়েছে। সেই রাগে, দুঃখে সে জোরে বাইক চালাচ্ছিল।

এরপরেই ওই কিশোরকে অবাক করে দেন ওই পুলিশকর্মী। তাকে জরিমানা না করে উল্টে সামনের দোকান থেকে কেক-মোমবাতি কিনে এনে জন্মদিন পালন করেন তিনি। পুলিশকর্মীর এই কাণ্ড দেখে ফের একবার কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই কিশোর। কিন্তু এবার আর দুঃখে নয়, আনন্দে।

পাশে থাকা এক পুলিশকর্মী সেই ছবি-ভিডিয়ো রেকর্ড করে ফেসবুকে আপলোড করে দেন। নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই পোস্ট। এখন ফেসবুকের একাধিক পেজে ঘুরছে সেই ঘটনা। পুলিশকর্মীরাও যে মানবিক এই ছবিই ফুটে উঠল ব্যাঙ্ককের রাস্তায়।