স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অমিত শাহর ভার্চুয়াল জনসভার পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাল তৃণমূল। মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে অনলাইনে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়৷ সেখানে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানান তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

শ্রমিক স্পেশালে পরিযায়ী শ্রমিকদের যে ভাবে ফেরানো হচ্ছে, তাকে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল র‌্যালিতে সেই বিষয়টিকে ইস্যু করে অমিত শাহ বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের অপমান করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো নিয়ে নবান্নের অনীহার অভিযোগ করেছিলেন অমিত শাহ।

তার জবাবে এ দিন ডেরেক বলেন, ‘‘কে ভারতীয় রেল চালায়? পরিযায়ী শ্রমিকদের আপনারা ৫০ দিন ধরে পাঠাচ্ছেন। আমরা বাস্তববাদী পরামর্শ দিয়েছিলাম, সামাজিক দূরত্ব মেনেও পাঁচ দিনে ৩ কোটি শ্রমিককে বাড়িতে পাঠানো সম্ভব। কে পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার কেড়েছে? কে পরিযায়ী শ্রমিকদের গবাদি পশুর মতো পাঠিয়েছে? কোনও খাবার ছাড়াই? মোদী-অমিত শাহের পরিকল্পনাহীনতার জন্যই ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।’’

করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় অর্থ সংগ্রহের জন্য গঠিত ‘পিএম কেয়ার্স’- কে ‘ওটা পিএম প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ডেরেক।

তিনি সাংবাদিক বৈঠকে আরও বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের হিসেবে আমফানে ১ লক্ষ ২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লক্ষ পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্র দিয়েছে মাত্র ১ হাজার কোটি।’’ কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনা নিয়ে বার বার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন ডেরেক সেই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প, জিএসটি, খাদ্যের ভর্তুকি-সহ সব মিলিয়ে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনা ৫৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সেই টাকা মেটানো হচ্ছে না।’’

আয়ূষ্মান ভারত গ্রহণ না করা নিয়ে এদিন রাজ্যের সমালোচনা করেন অমিত শাহ। এরপরই সরাসরি অমিত শাহর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ একই সঙ্গে তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধেছেন অর্থমন্ত্রী ৷

সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত মিত্রর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘যে প্রকল্প প্রায় দু’বছর আগে থেকে সাফল্যের সঙ্গে চলছে, একই রকম প্রকল্প কেন নেওয়া হবে?’’ শৌচাগার তৈরি, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার মতো একাধিক বিষয়ে অমিত শাহ ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে অমিত মিত্র বলেছেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিক হোক বা ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী— কাউকে নগদ অর্থসাহায্য করা হয়নি। অথচ বিশ্বের প্রায় সব দেশই নগদ আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে।’’ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, এই ২০ লক্ষ কোটি টাকা দেশের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ। এই প্যাকেজকে বিগ জিরো বলে মন্তব্য করে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘এখন তো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক হচ্ছে যে, এই প্যাকেজ জিডিপি-র ০.৯ শতাংশ নাকি ১.১ শতাংশ।’’

এঁরা ছাড়াও দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী প্রত্যেকেই অমিত শাহকে আক্রমণ করেছেন।

এদিন নাগরিকত্ব আইন থেকে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু, সব প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা দিদি, মতুয়া, নমঃশূদ্র ও বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এদেশে শরণার্থী হয়ে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়াকে কেন বিরোধিতা করছেন? তোষণের রাজনীতির জন্য সিএএ-এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে। উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের সুবিধা মোদী সরকার দেবেই। ভোটে মমতা সরকারকেই উদ্বাস্তু করে দেবে বাংলার মানুষ।”

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব