ইন্দোর: শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল টিম ইন্ডিয়ার হাতে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে ভারত। দ্বিতীয় দিনের শেষেই রানের পাহাড়ে চড়েছে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ইনিংসের নিরিখে বাংলাদেশের থেকে ব্যবধান এতটাই বাড়িয়ে নিয়েছে কোহলিরা, ক্রিকেট পন্ডিত না হলেও বলে দেওয়া যায় যে, এই পরিস্থিতি থেকে ভারতের দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নামার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। অর্থাৎ, ম্যাচ মাত্র দু’দিন গড়াতেই ভারতীয় শিবির ইনিংস জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে।

ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ১৫০ রানে গুটিয়ে যায়। পালটা ব্যাট করতে নেমে ভারত দ্বিতীয় দিনের শেষে তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৪৯৩ রান তুলেছে। অর্থাৎ, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের থেকে ৩৪৩ রানের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া।

ভারতের হয়ে ওপেনার ময়াঙ্ক আগরওয়াল দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরি করেন। নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া করেন অজিঙ্কা রাহানে। হাফ-সেঞ্চুরি করে সাজঘরে ফিরেছেন চেতেশ্বর পূজারা। ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করে লড়াই জারি রেখেছেন রবীন্দ্র জাদেজা। যদিও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

আরও পড়ুন – বীরু’র ঢংয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি ময়াঙ্কের

টাইগারদের প্রথম ইনিংসের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম দিনে রোহিত শর্মার (৬) একমাত্র উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান তুলেছিল। ময়াঙ্ক আগরওয়াল ৩৭ ও চেতেশ্বর পূজারা ব্যক্তিগত ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার পর থেকে খেলতে নেমে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে একজোড়া উইকেট হারালেও সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেকে সঙ্গে নিয়ে ময়াঙ্ক ভারতকে ম্যাচে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। পরে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে জুটি বেঁধে আগরওয়ালই বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন।

দিনের শুরুতে চেতেশ্বর পূজারা আবু জায়েদের বলে পরিবর্তে ফিল্ডার সঈফ হাসানের হাতে ধরা পড়েন। তবে তার আগে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন পূজারা। ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭২ বলে ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন চেতেশ্বর। পরের ওভারে বল করতে এসে সেই আবু জায়েদই তুলে নেন বিরাট কোহলির মূল্যবান উইকেট। মাত্র ২ বল ক্রিজে কাটিয়ে খাতা খুলতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। কোহলি এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা লাগান। উল্লেখ্য, প্রথম দিনে রোহিত শর্মাকেও ফেরত পাঠিয়ে ছিলেন আবু জায়েদ।

দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ৩ উইকেটের বিনিময় ১৮৮ রান তুলেছিল ভারত। লাঞ্চের পর থেকে চায়ের বিরতি পর্যন্ত দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৩০ ওভার ব্যাট করে ভারত নতুন করে কোনও উইকেট না হারিয়ে আরও ১১৫ রান যোগ করে। চা-বিরতিতে ভারতের দলগত স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩০৩ রান। দিনের শেষ ৩০ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে স্কোরবোর্ড পুনরায় ১৯০ রান যোগ করে ভারত।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর অজিঙ্কা রাহানে আউট হন ব্যক্তিগত ৮৬ রানে। ১৭২ বলের ইনিংসে তিনি ৯টি বাউন্ডারি মারেন। ময়াঙ্ক আগরওয়াল কেরিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন লাঞ্চের পরেই। চায়ের বিরতির পর ব্যক্তিগত শতরানে পৌঁছে যান কর্ণাটকী তারকা। শেষমেশ ময়াঙ্ক আউট হন ৩৩০ বলে ২৪৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে। মোট ২৮টি চার ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ঋদ্ধিমান সাহার অবদান ১১ বলে ১২ রান। দিনের শেষে রবীন্দ্র জাদেজা অপরাজিত রয়েছেন ৭৬ বলে ৬০ রান করে। তিনি ৬টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছেন। উমেশ যাদব ব্যাট করছেন ১০ বলে ২৫ রান করে। তিনি ১টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

বাংলাদেশের হয়ে আবু জায়েদ ১০৮ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট দখল করেছেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন ও মেহেদি হাসান।