ফাইল ছবি

ঢাকাঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর ত্রয়োদশ গ্রেডে উন্নীত করল হাসিনা সরকার। মূলত ‘বেতন বৈষম্য’ দূর করতে এসব শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করে আজ রবিবার আদেশ জারি করেছে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমনটাই জানাচ্ছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম।

প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এতদিন চতুর্দশ (১০,২০০ – ২৪,৬৮০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা পঞ্চদশ গ্রেডে (৯,৭০০ – ২৩,৪৯০ টাকা) বেতন পেয়ে আসছিলেন। এখন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহী শিক্ষদের সবার বেতন ত্রয়োদশ গ্রেডে (১১,০০০ – ২৬,৫৯০ টাকা) শুরু হবে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করা হলেও প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড আগের মতই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা একাদশ এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা দ্বাদশ গ্রেডে বেতন পাবেন। ২০১৯ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার কথা জানানো হয়েছে আদেশে। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। আর ৩৫ শতাংশ পদে হবে সরাসরি নিয়োগ। তবে ওই ৬৫ শতাংশ পদে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগ করা হবে। সহকারী শিক্ষক পদে সাত বছরের অভিজ্ঞরা পদোন্নতির যোগ্য হবেন।

আর সহকারী শিক্ষকদের সব পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে কোনও স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে সরকার। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করা হয়।

প্রধান শিক্ষকরা তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই নিয়ে হাই কোর্টে রিট হলে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে বেতন দিতে নির্দেশ দেয়। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ওই আদেশ কার্যকর করতে বলা হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।