ফাইল ছবি

কলকাতা: বিকাশ ভবনের কাছে পার্শ্ব শিক্ষকদের অবস্থান চতুর্থ দিনে পড়ল৷ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী৷ এমনটাই দাবি পার্শ্ব শিক্ষক সংগঠনের৷ অন্যদিকে পার্শ্ব শিক্ষকদের মামলার শুনানি হবে আগামী সোমাবার৷ গতকাল বুধবার ছিল পার্শ্ব শিক্ষকদের মামলার শুনানি৷ আদালতে সে দিন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান,পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোলনে সরকারের অভিযোগ নেই৷ তারপরই ওই মামলার মুলতুবি হয়ে যায়৷ আদালত জানায়, মামলার শুনানি হবে আগামী সোমাবার৷ তবে আন্দোলনকারীদের জন্য সরকার কোনও বায়োটয়লেটের ব্যবস্থা করেননি বলে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান৷

পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি জানান,বায়োটয়লেটতো দূরের কথা, সরকার পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও করেনি৷ নেই কোনও অ্যাম্বুলেন্সও৷ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ যদিও কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ রয়েছে অবস্থানকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করার কথা৷

১১ নভেম্বর থেকে অবস্থানে বসেছেন পার্শ্বশিক্ষকরা৷ সেই আন্দোলন বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে পড়ল৷ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান আন্দোলন চলবে বলে জানালেন পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ৷ যদিও আগেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্কুলে না গিয়ে অন্যত্র বসে থাকলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

গত রবিবার আদালত বিশেষ বেঞ্চ বসিয়ে অনুমতি দিয়েছে,বিকাশ ভবন থেকে ১০০ মিটার দূরে ধরনা ও অবস্থানে বসেতে পারবে পার্শ্ব শিক্ষক-শিক্ষিকারা৷ তবে পার্শ্বশিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ আদালত জানিয়েছে, সোমবার থেকে ধরনা শুরু করতে পারেন পার্শ্বশিক্ষকরা৷ সেই মত গত সোমবার বিকাশ ভবনের কাছে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন পার্শ্ব শিক্ষক-শিক্ষিকারা৷ তাছাড়া বাকিদের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে বিধান চন্দ্র রায়ের মূর্তির কাছে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে বলা হয়েছে৷

রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত পার্শ্বশিক্ষকদের একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম দিকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা৷ কিন্তু সেখান থেকে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি৷

তারপরই তারা শান্তিপূর্নভাবে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন৷ বিধাননগর পুলিশ আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দিচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আন্দোলনকারীরা। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চে ধাক্কা খেলেও পরে ডিভিশন বেঞ্চে তাদের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে৷ শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিদাওয়াগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য এজিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

এদিন রাজ্যের আইনজীবী অর্ক নাগ বলেন, ‘ওখানে বিকাশ ভবন ও জলসম্পদ ভবন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর রয়েছে। রয়েছে হাসপাতালও। তাই ওখানে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। ফলে পার্শ্বশিক্ষকদের অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ এই কথা শুনে বিচারপতি বসাক প্রশ্ন করেন, বিকাশ ভবনের গেট থেকে ১৫০ ফুট দূরে সমাবেশ হলে অসুবিধা কোথায়? এভাবে ১৪৪ ধারার অজুহাতে কোনও সমাবেশ আটকানো যায় না।