স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: লকডাউনের গেরোয় বহুদিন ধরেই বন্ধ স্কুল, কলেজ। পড়াশোনার সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন সকলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হলেও তা সম্ভব হচ্ছে না সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে।

তার সবথেকে বড় কারণ হল, একাংশ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ইন্টারনেট ব্যবস্থা না থাকায় অনলাইন পড়াশুনায় যোগদান করতে পারছে না তারা। ফলে এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীকে নিজের গ্রামে গিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি-১ ব্লকের নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এইরূপ নজরকাড়া কর্মসূচিতে খুশি সকালে।

স্কুল- কলেজ কবে খুলবে তা নিয়ে অনিশ্চিত শিক্ষক- শিক্ষিকা থেকে ছাত্র- ছাত্রীরা। এমন পরিস্থিতিতে শহরের নামজাদা স্কুল গুলি এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে ছাত্র-ছাত্রীদের।

কিন্তু গ্রাম কিংবা মফস্বল এলাকা গুলির ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবস্থা তেমনভাবে বিস্তার লাভ না করায় ওই সমস্ত এলাকা গুলির স্কুলে অনলাইনে পঠন-পাঠন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লকডাউনে এক প্রকার পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন বলা চলে ছাত্র-ছাত্রীদের।

এমন পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রামে গ্রামে পড়াতে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। জেলার নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, “চলো গ্রামে যাই, শিশু পড়াই”।

ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা থেকে সম্পর্কচ‍্যুত হওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই সিদ্ধান্ত নেন ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে পড়ানোর। এই সিদ্ধান্তে সায় দেন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এরপরে নির্দিষ্ট ৪-৫ টি গ্রামকে বেছে নিয়ে সেই গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এরফলে গ্রামের যেকোনও একজনের বাড়ির উঠোনে সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ক্লাস নেবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সকাল ১০টা থেকে চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কাঁথি-১ ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক লিপন তালুকদার ও অভিভাবক- অভিভাবিকারা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই বলেন, “আমরা অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। শৌলা গ্রামের অভিভাবকরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সুরক্ষা বিধি মেনেই তাঁরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমাদের আশা শৌলা গ্রামের মতো স্থানীয় অন্যান্য গ্রামের অভিভাবকরা আমাদের আবেদনে সাড়া দেবেন।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ