স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: রাজ্যের শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট৷ একাধিক এবং লাগাতার বিক্ষোভ ও আন্দোলেন সেই দৃষ্টান্তই তৈরি করছে৷ শহর কলকাতা নয়, এবার শিক্ষকদের বিক্ষোভ বাঁকুড়ায়৷ একাধিক দাবি নিয়ে পথে নামল নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

সর্বভারতীয় পিআরটি স্তরের নিরিখে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের বেতন, প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের নতুন বেতনক্রমের আওতায় আনা, ষষ্ঠ পে কমিশন দ্রুত কার্যকর সহ ২২ দফা দাবি সমিতির সদস্যদের৷ এই ইস্যুতে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি দিল সমিতির সদস্যরা৷ বৃহস্পতিবার সংগঠনের সদস্যরা শহরে মিছিল করে মাচানতলায় জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কার্যালয় ‘বিদ্যাভবনে’ পৌঁছান।

আরও পড়ুন : সারদায় চাঞ্চল্যকর মোড়, ইডি’র জেরার মুখে তৃণমূল সাংসদ

সংগঠনের জেলা সভাপতি অশোক মুখোপাধ্যায় এদিন ‘মিড ডে মিল ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি’ দেওয়ার দাবি করে বলেন, এতে স্কুলে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। মিড ডে মিল ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী গুলির হাতে দিয়ে শুধুমাত্র দেখভালের দায়িত্ব শিক্ষক সমাজের হাতে থাকলে আখেরে ছাত্র সমাজের লাভ হবে। এই দাবি বাঁকুড়া জেলা থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংগঠনের জেলা সম্পাদক হীরালাল পাল তাদের দাবির বিষয়ে বলেন, ষষ্ঠ পে কমিশন, বকেয়া ডিএ, ডব্লু.বি.এইচ.এস-২০১৮ রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ক্ষেত্রে চালু হলেও প্রাথমিক শিক্ষকরা এক্ষেত্রে বঞ্চিত দাবি করে তাদেরও এই সুযোগের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তিনি৷

আরও পড়ুন : বিজেপিকে ধাক্কা দিয়ে মমতার হাত শক্ত করতে তৃণমূলে বহু কাউন্সিলর

এদিন তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আরো বলেন, অতিরিক্ত শিক্ষকের অজুহাত দেখিয়ে ৪১৭ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় এক জন শিক্ষক দিয়েই স্কুল চলছে। একই সঙ্গে ছাত্র ছাত্রীদের পোশাক দেওয়ার কাজে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী গুলিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
পরে সংগঠনের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যাভবনে গিয়ে বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির হাতে তাদের দাবীপত্র তুলে দেন বলে জানা গিয়েছে৷