দিঘা: চলতি বছরের অগাস্টে দিঘা সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে পড়েন দিঘার বিজ্ঞান মঞ্চ লাগোয়া পরিমল জানার চায়ের দোকানে। দোকানে ঢুকে নিজেই চা বানাতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের হাতে চা বানিয়ে খাওয়ান সঙ্গে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে রাতারাতি সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান দিঘার পরিমল জানা।

এরই মধ্যে ঘটে বিপত্তি। মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই দোকান ভাঙা পড়ে পরিমলের। আগামিকাল দিঘায় শুরু শিল্প সম্মেলন। শিল্প সম্মলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে গত নভেম্বর মাস থেকেই দিঘায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। রাস্তার পাশে ফুটপাতে দোকান করে থাকা ওই ব্যবসায়ীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই রাস্তার পাশে থাকা নিজের দোকানের কিছুটা অংশ নিজেই ভেঙে নিয়েছেন পরিমল। দোকানের বাকি অংশটুকুও রাস্তা থেকে কয়েক ফুট পিছনের দিকে সরিয়ে নিয়েছেন পরিমল জানা।

মুখ্যমন্ত্রীর চা তৈরি করার নানা মুহূর্তের ছবি পরিমল বাঁধিয়ে রেখেছেন দোকানে। মুখ্যমন্ত্রীর চা তৈরির পরে সৈকত শহরে রাতারাতি যে চায়ের দোকানটি ফেমাস হয়ে গিয়েছিলো সেই দোকানের এখন হতশ্রী দশা। এই চা দোকানের মালিক পরিমল জানা বলেন, ‘দিদি আমার দোকানে পা রাখার পর আমাদের কিছু হবে বলে আশা করেছিলাম । কিন্তু এভাবে উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হব ভাবতেই পারিনি।

তাছাড়া এখনও পর্যন্ত পুনর্বাসনের সুযোগটুকুও পাইনি’। দুই মেয়ে ও স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিমল জানার সংসার। রুজিরোজগার বলতে সম্বল এই চায়ের দোকান। মুখ্যমন্ত্রী আবার দীঘায় আসছেন। দিদি যদি দোকানের এই পরিস্থিতি দেখেন তাহলে হয়তো পুনর্বাসনের একটা ব্যবস্থা হবে, সেই আশায় রয়েছেন দিঘার পরিমল জানা