স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: “দুটি পাতা একটি কুড়ি, শাল সেগুনের সারি/ ডিমা নদী আর কালজানির তীরে তোমায় চিনতে পারি।” কবির কল্পনায় ডুয়ার্স অনেকটা এরকমই। কিন্তু, বাস্তব ডুয়ার্স অনেকটা অন্যরকম। একটু গভীরে গেলে তাকে জানা যায় আরও গভীর ভাবে।

ডুয়ার্সে একের পর এক চা বাগান বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সে কথা সকলেরই জানা। নেতা-মন্ত্রীদের হাজারো প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও খোলেনি সেইসব বাগান। অনাহারে মরে গিয়েছে বহু চা-শ্রমিক। বাগানে গড়ে ওঠেনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগেছে। তবু, টনক নড়েনি সরকারের। চা শ্রমিকরা আজও নিজেদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত।

আজ বিশ্ব মানবতা দিবসে এই সব কথাই উঠে এল ডুয়ার্সের মানবাধীকারকর্মী সুমন গোস্বামীর মুখে। পাহাড়ি মানুষদের সমস্যায় তিনি হামেশাই ছুটে যান। kolkata24x7-কে তিনি বলেন, “চা-বাগিচা দিয়ে ঘেরা আমাদের ডুয়ার্স অঞ্চল। চা বাগানের শ্রমিকরা তাঁদের ন্যূনতম মজুরির থেকে আজও বঞ্চিত। তাঁদের বিবিধ দাবিদাওয়া আজও পূরণ হয়নি। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি ভয়াবহ জায়গায় চলে গিয়েছে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এখানে থাকতে পারছে না। তাঁদের বাইরে কাজ খুঁজতে যেতে হচ্ছে।”

এব্যাপারে রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয় সরকারের উদাসীনতার কথা উঠে আসে সুমন বাবুর কণ্ঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন গ্রামের মানুষ, বিশেষত জঙ্গলের মধ্যে বসবাস করেন যাঁরা, তাঁদের যে অর্জিত অধিকার অর্থাৎ আইনে প্রাপ্ত অধিকার সেটা দিতেও গড়িমসি করছে কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার উঠে পড়ে লেগেছে তাঁদের অধিকারটুকু তুলে দেবার জন্য। এইসব কথাই আজ বিশ্ব মানবতা দিবসে আমাদের মনে রাখা উচিৎ।”

নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতি কতটা কাজে লাগবে, আগামী দিনে বন্ধ হওয়া বাগান পুনরায় খুলবে কিনা, চা-শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি পেতে আরও কতদিন সময় লাগবে– সে দিকেই তাকিয়ে আছে সুমন বাবু-সহ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প