জলপাইগুড়ি : সম্প্রতি বোনাসের জন্য তালা ঝুলেছে নয়াসইলি চা বাগানে। এবার পুজোর মুখে আরও বড় সমস্যায় পড়ে গেলেন চা বাগানের শ্রমিকরা। টি-বোর্ডের অধীনস্থ প্যান ইন্ডিয়া এবং ব্যাঙ্কের লেনদেনের সমস্যার জেরে আটকা পড়েছে ডুয়ার্সের বেশ কয়েকটি চা বাগানের পুজোর বোনাস। বোনাস চুক্তির পরেও সময়মতো টাকা না পাওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট চা বাগানের শ্রমিকদের।

টি-বোর্ডের অধীনস্থ প্যান ইন্ডিয়া এবং ব্যাঙ্কের লেনদেনের সমস্যায় আটকে হাজারো চা বাগানের শ্রমিকদের পুজোর বোনাস।  বৃহস্পতিবার নিজের দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান চা বাগান মালিক সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিপিএ) মুখ্য উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্ত্তী। ইতিমধ্যেই চটজলদি বোনাস প্রদানের দাবী জানিয়েছে প্রতিটি চা শ্রমিক সংগঠন। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন চা বাগানের শ্রমিক সংগঠনগুলিও। কারন সমস্যা আরও বেশীদিন গড়ালে হতে পারে শ্রমিক আন্দোলন। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইছেন তাঁরাও।

আইটিপিএ সূত্রে জানা গিয়েছে সম্প্রতি টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া অনলাইন নিলামে চা বিক্রীর ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি এনেছে। যা চলতি মাসের ১৪ তারিখ থেকে কার্যকরী হয়েছে। আগে টি ব্রোকাররা সরাসরি বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমান চা নিলামের জন্য নিয়ে আসতো। তার বিনিময়ে ব্রোকার সংশ্লিষ্ট বাগান কর্তৃপক্ষকে ওই পরিমান চায়ের একটা মূল্য ধরে নিয়ে ৫০ শতাংশ টাকা অগ্রিম প্রদান করতো। পরবর্তীতে চা বিক্রীর পর বকেয়া টাকা প্রদান করতো ব্রোকার। এই পুরো কেনাবেচা পদ্ধতি চলতো প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। কিন্তু টি বোর্ড সম্প্রতি চা বিক্রীর ক্ষেত্রে সচ্ছতা আনতে অনলাইন নিলামে পদ্ধতি চালু করেছেন। এই বিষয়টি পরিচালনা করছে প্যান ইন্ডিয়া। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনলাইন নিলামের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার কাছে চা বিক্রি করছেন। বিক্রিত চায়ের মূল্যের ওপর ২ শতাংশ শুল্ক প্যান ইন্ডিয়া কেটে নিয়ে ব্যাঙ্কের মারফত ওই টাকা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দেবে। সদ্য চালু হওয়া এই পদ্ধতির কারনেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। নতুন পদ্ধতির জন্য ব্যাঙ্কে কাগজপত্র তৈরীতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণেই বাগানগুলো টাকা পেতে সমস্যায় পড়ছে। পুজোর আগে বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা যাচ্ছে। ডুয়ার্সের সংগঠনের ৪০-৪৫টি বাগানের অধিকাংশ বাগানেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তৃণমূল চা বাগান ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, “যেখানে শ্রমিকদের বোনাসের বিষয় রয়েছে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিৎ। বিষয়টি নিয়ে টি বোর্ড এবং বাগান কর্তৃপক্ষে সাথে আলোচনা করবে”। প্রয়জনে বিষয়টি শ্রমমন্ত্রীর নজরে আনা হবে বলে জানা মোহন বাবু। চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চের আহবায়ক জিয়াউর আলম বলেন, আধুনিক লেনদেন প্রক্রিয়া নিয়ে   সচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে মালিক পক্ষের পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্য এবং কেন্দ্রকেও।