স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মল মূত্র ত্যাগ করলে মানুষ দুর্বল হয় না, সবলই হয়৷  বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরতে চাওয়া নেতাদের খোঁচা দিয়ে বিতর্কিত টুইট করলেন তথাগত রায় (Tathagata Roy)।
প্রয়াত সিপিএম নেতা হরেকৃষ্ণ কোঙারের একটি মন্তব্য উল্লেখ করে শুক্রবার সকালে টুইটটি করেছেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা৷

বিধানসভা ভোটের পর অনেকেই  তৃণমূলে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন। সোনালি গুহ, দীপেন্দু বিশ্বাসরা ইতিমধ্যেই লিখিত ভাবে সে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়, শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলে ফিরতে পারেন এমন জল্পনা চলছে ৷ এই পরিস্থিতিতেই তথাগত রায় টুইটে লিখেছেন, “তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা যে সব নেতা আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন তাঁদের সম্বন্ধে আমি প্রয়াত সিপিএম নেতা হরেকৃষ্ণ কোঙারের একটি মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করছি। ১৯৬৪ সালে যখন কম্যুনিস্ট পার্টি ভাঙে তখন সিপিআই নেতাদের সম্বন্ধে এই উক্তি।” যদিও টুইটে কারোর নাম নেননি তথাগত৷ তবে তথাগত রায়ের ভাষা ব্যবহার নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন৷

একুশের ভোটে ‘আসলি পরিবর্তনের’ স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলায় গো-হারান হেরেছে বিজেপি। ২০০ আসনের দাবি তুলে ১০০ ছুঁতে পারেননি তাঁরা। স্বভাবতই ভেঙে পড়েছেন দলের উঁচু থেকে নিচু তলার নেতা ও কর্মীরা। কী কারণে দলের এমন ভরাডুবি হল, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে দলের অন্দরে৷ এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন তথাগত রায়৷ দলের ‘হেরে ভূত’ তারকা পায়েল, শ্রাবন্তী, তনুশ্রীদের নাম নিয়ে ‘নগরীর নটী’ বলে কটাক্ষও করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। এমনকি নির্বাচনে শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশ্রী, পার্নোর মতো তারকাদের টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিম’-এর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি৷ তারকাদের ‘নগরীর নটী’ এবং দিলীপ ঘোষ, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, শিব প্রকাশ, অরবিন্দ মেনন প্রমুখকে ‘প্রভু’ বলে কটাক্ষ করেছেন তথাগত।

তথাগত রায়ের বক্তব্য, “৮০-র দশক থেকে যারা প্রাণপাত করে বিজেপি করেছেন তাঁদের নির্বাচনী যুদ্ধের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বিজেপির কিছু নেতা।” আর এখানেই তথাগত রায়ের প্রতিবাদ। তথাগত রায়ের এই অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি বহিরাগত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাঙালি ভাষার দিক থেকে স্পর্শকাতর। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশ, অরবিন্দ মেনন,দিলীপ ঘোষরা সঠিক ভাষা দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছতেই পারেননি। চোখের সামনে এবার বিজেপি-র কবর খনন করা হয়েছে।” এর আগে তথাগত রায় এও বলেছেন, “দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) , কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Bijaybargia), শিবপ্রকাশ (Shivprakash), অরবিন্দ মেননের (Arvind Menon) মতো নেতাদের বাংলার মানুষের ভাষার প্রতি স্পর্শকাতরতা বোঝার ক্ষমতা নেই।” এমন কী এই নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথাগত রায়। তিনি বলেছেন, “দিল্লির নেতৃত্ত্বদের ভুল বুঝিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাসবিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, শিবপ্রকাশরা। এমনকী ৭৭টি আসন পেয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বগল বাজাচ্ছে বলেও তিনি কটাক্ষ করেন। তিনি বলরেন, ” এইট পাশ করা নেতারা নেতৃত্ব দিলে আর এর চেয়ে কী ভালো হবে?”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.