কলকাতা : তথাগত রায় মুখ পাতলা মানুষ বলে পরিচিত। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে তিনি দলের নেতাদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে ভাবে মন্তব্য করা শুরু করেছেন তার জন্য তাঁকে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিল্লি ডেকে পাঠায় । কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ডাক পাওয়ার কথা ট্যুইট করে জানা তথাগত রায়। তবে তিনি ও জানিয়ে দেন এখনই তিনি দিল্লি যাচ্ছেন না, কারণ তিনি করোনা আক্রান্ত। তবে তিনি দিল্লি না গেলেও নিজের বক্তব্যে স্থির থেকে দিল্লির বিজেপি নেতাদের চিঠি দিতে চলেছেন বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় । এই প্রসঙ্গে তথাগত জানিয়েছেন, ‘”আমি করোনা আক্রান্ত হলেও এখন অনেকটাই সুস্থ। কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত দিল্লি যেতে পারব না। তবে এ বার আর মৌখিক নয়, লিখিত অভিযোগ জমা দেব।” তথাগত কারও নাম উল্লেখ না করলেও ভোটের আগে বিজেপি-তে যোগ দেওয়াদের একাংশকে “চোর, লম্পট, বদমায়েশ, দুশ্চরিত্র” বলেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি যা বলেছেন তার থেকে একচুল সরে আসার কোনও প্রশ্ন নেই।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র জয়ের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে ব্যার্য়ের মানুষ। ২০০ আসন নিয়ে বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার ঘোষণা সফল তো হয়নি উল্টে ১০০ আসন পায়নি বিজেপি। উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১৩টি আসন নিয়ে সরকার গড়েছেন। ভরাডুবির পর দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন তথাগত রায় । বিজেপি-র ৩ তারকা-প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, তনুশ্রী চক্রবর্তীদের উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “নগরীর নটী” বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তথাগত রায়। এর পরই তথাগতবাবুর নামে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মাধ্যমে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নালিশ করেন ওই তারকা প্রার্থীরা। তবে এখানেই থেমে না থেকে তথাগত রায় সোজা অভিযোগ করেন দিলীপ ঘোষ , কৈলাস বিজয়বর্গীয়,শিবপ্রকাশ এবং অরবিন্দ মেননের নামে। ওই ৪ জন বিজেপি নেতাকে সংক্ষেপে “কেডিএসএ” বলেও ট্যুইটে কটাক্ষ করেন তথাগত রায়। বলেন এই নেতারাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের নাম পঙ্কে টেনে এনেছেন এবং এদের জন্যই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দলের ভাবমূর্তি ভুলুন্ঠিত হয়েছে।

এদিকে এর পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে তলব করেছেন বলে তথাগতবাবু ট্যুইট করে জানান। তবে কে তাঁকে ডেকেছেন তা প্রকাশ করেননি । তিনি শুধু বলেন ওপর মহল থেকেই তাঁকে ডাকা হয়েছে। আমি এখন দিল্লি যেতে পারছি না। তবে এ বার সবিস্তারে লিখে অভিযোগ জনাব এই সব নেতা কী করে দলটাকে শেষ করে দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় যোগদান মেলা নিয়েও তথাগতবাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যত চোর, দুশ্চরিত্র, বদমায়েশ, লম্পটদের নিয়ে যোগদান মেলা হয়েছে। তবে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কেউই তথাগত রায়ের এই মন্তব্যের জবাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। বিজেপির রাজ্য শীর্ষ নেতারা এই প্রসঙ্গে সবাই বলেছেন, যা বলার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাব। বিজেপি-র একটা অংশ মনে করছেন তথাগত রায় যা বলছেন সেটা দলের বহু নেতাকর্মীর মনের কথা। তাই সময় এই প্রসঙ্গে কিছু বলার সময় নয় ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.