কলকাতাঃ  বাম জমানায় তৎকালীন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রতন টাটা সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়তে গেলে স্থানীয় চাষিদের একাংশের বাধার মুখে পড়েন৷ সেই অনিচ্ছুক চাষিদের জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করা আন্দোলন এমন পর্যায়ে যায় যে গোটা দেশের নজর কাড়ে ৷ আর বাংলার তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আন্দোলনে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জমিকে আরও সুদৃঢ় করেন৷ বিরোধিতার মুখে পড়ে টাটার ন্যানো প্রকল্প এই রাজ্যের সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে যান৷

সেই সিঙ্গুরেই এবার শিল্প চায় বিজেপি। সিঙ্গুরের মাটিতে যাতে ফের টাটাকে ফেরানো যায় তা নিয়ে নতুন করে আওয়াজ তুলেছেন হুগলি লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। যে সিঙ্গুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার রাস্তাকে আরও মসৃণ করে তুলেছিল এখন সেখানকার মানুষই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মমতার থেকে। সিঙ্গুরের শক্ত মাটিতে ক্রমশ বাঁধন হালকা হচ্ছে তৃণমূলের। সে জায়গায় ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বিজেপি। এই অবস্থায় তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

আজ মঙ্গলবার একটি মামলায় বারাসত আদালতে যান রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিঙ্গুরে শিল্প আমরাই চাইছি। তবে কখনও কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে জমি নিয়ে নয়। শুধু তাই নয়, সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে মাস্টারমশাইয়ের দাবি, সিঙ্গুরে চাষিরা স্বেচ্ছায় জমি দিলে সেখানে শিল্প গড়তে সমস্যা কোথায়। শুধু টাটা কেন, যে কোনও শিল্পপতিই সিঙ্গুরে আসতে পারেন, কারাখানা গড়তে পারেন। এখানকার মানুষ তাঁদের স্বাগত জানাবে বলে মন্তব্য সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের এই নেতা।

প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরানোর দাবিতে একযোগে লড়াই চালিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্ত্রিসভায় রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে নিয়ে আসেন। যদিও পরবর্তীকালে ক্রমশ দলনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক আলগা হয়েছে তাঁর। মূলত সিঙ্গুর আন্দোলনের আরেক নেতা বেচারাম মান্নার গোষ্ঠীর সঙ্গে বিবাদের জেরে ক্রমশ সরে যান সিঙ্গুরের এই মাস্টারমশায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সম্পর্কে ছেদ পড়ে। নতুন করে যখন সিঙ্গুরের মাটিতে টাটাকে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে নামছে বিজেপি তখন কার্যত সেই আন্দোলনকে সমর্থনই জানাচ্ছেন তিনি।