লন্ডন: ইস্পাতের চাহিদা তলানিতে ঠেকায় এখন কারখানার বেহাল দশা । পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে বাজারে বাড়তি সরবরাহ এবং উৎপাদনের চড়া খরচ। এই অবস্থায় ভারতের টাটা স্টিল ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের ব্যবসায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে। সম্প্রতি টাটা স্টিলের সিইও হেনরিক অ্যাডম ইউরোপে এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে ইউরোপে কোনও সংস্থা গোটানো হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন। টাটা স্টিলের ইউরোপীয় ব্যবসায় কর্মরত আপাতত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার৷ সেক্ষেত্রে প্রায় ৩০০০কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে ৷

কয়েক মাস টাটা স্টিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতিতে ইস্পাতের চাহিদা সামাল দিতে লগ্নি কাটছাঁট করা হতে পারে। সেই বিষয়ে ভারতের পাশাপাশি ইউরোপ কথাও বলা হয়েছিল। ইউরোপে তাদের বেশ কিছু শাখায় তালা ঝোলানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। এ বার অ্যাডামের দাবি, একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এখন তাদের সংস্থা। নগদ আয় বাড়িয়ে ইউরোপের ব্যবসা জোরদার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা কথা ভাবা হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, যেসব পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে তাতে রয়েছে – জোগান কমানো, উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর্মী সংকোচনের মাধ্যমে খরচ কমানো। নেদারল্যান্ড এবং ওয়েলসে ইস্পাত কারখানা ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে টাটা স্টিলের অনুসারি শিল্প ৷

বেশ কিছুদিন ধরেই ইস্পাতের চাহিদা তলানিতে৷ যদিও উপচে পড়ছে জোগান। চাহিদ জোগানের সমীকরণে ইস্পাতের দর কমছে । এর জন্য চিনকে দায়ী করছে ইউরোপিয় সংস্থাগুলি কারণ মাত্রারিক্ত সরবরাহ করছে চিন। ফলে একেবারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে গোটা ইস্পাতের বাজার। পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুতের খরচ। এই পরস্থিতিতে একপ্রকার নিজস্ব উৎপাদনও কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে ৷