নয়াদিল্লি: গত কয়েকদিন ধরেই নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই বিলে। ওইসব দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, ক্রিশ্চানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও মুসলিমদের উল্লেখ নেই।

এই প্রসঙ্গে অমিত শাহের ব্যাখ্যা ওইসব দেশ মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ায় সেখান মুসলিমদের উপর অবিচার ঘটার সম্ভাবনা কম। তাই মুসলিমদের কথা রাখা হয়নি। যদিও মুসলিমদের সঙ্গে কোনও আবিচার হলে, তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছিল তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে। তিনি বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত, কিন্তু তিনি মুসলিম। দীর্ঘদিন ধরেই ভিসা নিয়ে ভারতে থাকছেন তিনি। তাঁকে কি নাগরিকত্ব দেওয়া হতে পারে? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যে প্রশ্ন উত্তর দিলেন তসলিমা নিজেই।

 

মঙ্গলবার তসলিমা একটি ট্যুইটে লিখেছেন, ‘যদ কেউ ভাবেন যে আমি মুসলিম, তাদের বলি যে আমি মুসলিম নই। আমি একজন নাস্তিক ও মানবতাবাদী। আমি মানব অধিকারে ও মহিলাদের সমান অধিকারে বিশ্বাস করি। আর আমি অবৈধ শরণার্থীও নই। আমি কোনও নাগরিকত্বও চাই না। আমি রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে ভারতে থাকি।’

অন্য একটি ট্যুইটে কার্যত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘বহু নিরপেক্ষ ও সংস্কারী মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে। তারা তো ইউরোপ, আমেরিকার ভিসাও পান না। তাদের কী হবে? তাদের কী মুখ বন্ধ রাখা উচিৎ বা মরে যাওয়া উচিৎ?’

এমনকি তসলিমার লেখা ‘লজ্জা’ বইতে বাংলাদেশের হিন্দুদের কষ্টের কথা বলাটা তাঁর অপরাধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।