নয়াদিল্লি: তাজমহলে নমাজ পড়া নিয়ে বিতর্ক ছিলই। সেই গোদের উপরে বিষ ফোড়া হয়ে এসেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। তাজমহলে নমাজ বন্ধ করে দিয়েছে ওই সংস্থা।

তাজমহলে নমাজ নিষিদ্ধ নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করেন তিনি। ইসলামের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছিল লজ্জার লেখিকাকে।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত অনুসারে, শুধুমাত্র শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে না৷ সেদিন ওই মসজিদে নমাজে কোনও বাধা থাকছে না মুসলিম ধর্মাবিলম্বীদের জন্য৷ স্বাভাবিকভাবেই কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ কারণ, তাজমহল নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিতর্কের ঝড় উঠতে পারে৷ এই বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত তাঁদের নয়৷ বরং তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলবৎ করলেন৷

এই বিষয়ে তলসিমা নাসরিন নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে। কেবলমাত্র জুম্মাবার বা শুক্রবার কেন, তাজমহলে সম্পূর্ণরূপে নমাজ নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন তিনি। তসলিমা লিখেছেন, “তাজমহলে কখনই নমাজ পাঠ উচিত নয়। শুক্রবারেও নয়।” তিনি আরও লিখেছেন, “তাজমহল একটি দরগা, ভালোবাসার প্রতীক। সপ্তম আশ্চর্যের একটি। রাষ্ট্রসংঘের এই ঐতিহ্যশালী জায়গায় প্রতি বছর বহু পর্যটক আসেন।” তাজমহল সংলগ্ন মসজিদগুলো এখন স্মৃতিস্তম্ভ বা মিউজিয়াম হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন।


তাজমহলের ওই মসজিদের ইমাম সাদিক আলি ও অন্য কর্মীদেরও শুক্রবার ছাড়া অন্যদিন নমাজে নিষেধ করা হয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে৷ মসজিদের ইমাম ও তাঁর পরিবার কয়েক দশক ধরে সেখানে নমাজ পড়াচ্ছেন৷ এর জন্য তাঁরা মাসে মাত্র ১৫ টাকা করে নেন৷ সাদিক আলি এএসআই-এর এই সিদ্ধান্তে অবাক৷

তাজমহলের ইন্তেজামিয়া কমিটির সভাপতি সৈয়দ ইব্রাহিম হুসেন জাইদি এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন৷ তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশের সরকার মুসলিম বিরোধী৷ তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ বছরের পর বছর ধরে চলা নমাজের এই রীতি বন্ধ হওয়া উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি৷