কলকাতা: ‘হত্যাকাণ্ড কোনও উৎসব নয়। হত্যাকাণ্ড কাউকে যেন আনন্দ না দেয়। ‘ বকরিদ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই মন্তব্য করলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। একদিকে যখন দেশ জুড়ে এই বকরিদের কোরবানি নিয়ে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই ‘নির্বাসিত’ বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমার এই মন্তব্য সেই বিতর্ক আরও খানিকটা উস্কে দিল।

শনিবার বকরিদের দিনেই ফেসবুকে এই বিষয়ে একটি স্টেটাস দেন তিনি। মাংস খাওয়া নিয়ে কোনও আপত্তি নেই তাঁর। কারণ, বাঙালিরা কমবেশি সবাই মাংসাশী। এমনকি পৃথিবীর সব মাংসাশী প্রাণীর জন্যই কোনও না কোনও প্রাণীকে হত্যা করা হয় বলেও উল্লেখ করেছেন তসলিমা। তবে এই কোরবানি ইদে যেভাবে গোরু-ছাগলকে কষ্ট দিয়ে মারা হয়, তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর। আর সেটাই বলতে চেয়েছেন লেখিকা।

আরও পড়ুন: ‘সোনাগাছি ঘুরে আসুন’, মমতাকে তসলিমা

তিনি আরও লিখেছেন যে সভ্য দেশগুলিতে প্রাণীকে অজ্ঞান করে হত্যা করা হয়, যাতে মৃত্যুটা যন্ত্রণাময় না হয়। কিন্তু কোরবানি ইদে কষ্ট দিয়ে মারা হয়। তিনি ছোটবেলায় দেখেছেন, ‘বাঁশ দিয়ে পাগুলোকে মুচড়ে মুচড়ে গরুকে ধরাশায়ী করা হয়, তারপর জ্যন্ত প্রাণীটির গলা ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা হয় একটু একটু করে। মানুষ ভিড় করে দ্যাখে এই হত্যাকাণ্ড। ‘ এই নৃশংস প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

তসলিমার দাবি, জবাই করার আগে পশুদের যেন অবশ করে নেওয়া হয়। পশুরা যেন যন্ত্রণা ভোগ না করে। পাশাপাশি, সব লোককে দেখিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালানো উচিৎ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হালাল প্রক্রিয়া বর্বর বলে হালালের পক্ষ নেবেন না তসলিমা বরং পশুর প্রতি দরদ থাকায় হারাম হতেও তিনি রাজি।

আরও পড়ুন: তিন তালাক নিয়ে এটা কি বললেন তসলিমা? জানলে স্যালুট জানাবেন

বিতর্কিত বই লেখার জন্য প্রথম তার নিজের দেশ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। তারপরে কলকাতায় বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি একই কারণে কলকাতা থেকেও তাকে সরে যেতে হয়। বর্তমানে তিনি সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।