নিউজ ডেস্ক: সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানো হয়েছে স্যানিটারি প্যাডের। বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদতে ওই দেশের মেয়েদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ওই দেশের নাগরিক নন। দীর্ঘদিন ধরে নিজের মাতৃভূমির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না থাকলেও নজরে রাখেন সবকিছুই। পাশাপাশি বাংলাদেসের নানাবিধ বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত তুলে ধরেন।

তেমনই বাংলাদেশ সরকারের স্যানিটারি প্যাডের অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বুধবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “শুনলাম বাংলাদেশে স্যানিটারি প্যাডের দাম এমন বাড়ানো হয়েছে যে গরিব মেয়েদের তা কেনার সাধ্য নেই। মেয়েদের মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র ছাড়া এ আর কী!”

এই মূল্যবৃদ্ধি সরকারের পক্ষ থেকে মেয়েদের মেরে ফেলার নতুন পদ্ধতি বলে মনে করছেন তসলিমা। তাঁর মতে, “প্রতিদিন ধর্ষণ, হত্যা,আত্মহত্যা, স্বামীর মারধর, এসব যেন যথেষ্ট নয়, তাই মেয়েদের মেরে ফেলার অন্য পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে। প্যাডগুলোকে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে রাখলে, মেয়েরা আনহাইজিনিক জিনিস পত্র ব্যাবহার করবে, জরায়ুতে ইনফেকশান হয়ে, সেপ্টিসিমিয়ায় একদিন মরবে। তাতে কারো কিছু যায় আসে না।”

স্যানিটারি ন্যাপনিক সাধারণ মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অনেক অযাচিত খরচ করা হয়ে থাকে। সেসব না করে বিনামূল্যে মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিলির উপদেশ দিয়েছেন লজ্জার লেখিকা। তাসলিমা লিখেছেন, “সরকার সাবমেরিন কিনে ফালতু টাকা নষ্ট করেন। সরকারের উচিত ঘরে ঘরে ফ্রি স্যানিটারি প্যাড পৌঁছে দেওয়া।”

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকার মেয়েদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তসলিমা। সেই বিষয়ে পুরুষশাসির সমাজের কোনও বদল হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, “ঘরে ঘরে একসময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের পিল ফ্রি বিলি করা হতো। ফ্রি লাইগেশান করা হতো। মেয়েদের তো গিনিপিগ হিসেবে আজ থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ওইসব পিল খেয়ে মেয়েদের অসুখ বিসুখ হয়েছে, তার দিকে কে ফিরে তাকিয়েছে। পুরুষেরা ভ্যাসেক্টমি করতে চায়নি, কন্ডমও ব্যাবহার করতে চায়নি। সুতরাং মেয়েদের সর্বনাশ হলে হোক। এক যৌনদাসির মৃত্যু হলে আরেক যৌনদাসি পাবে পুরুষেরা।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তসলিমা। তিনি লিখেছেন যে মেয়েদের ক্ষতি তো অনেক হয়েছে, এবার ক্ষতিপূরণের কিছু করুক সরকার। ঘরে ঘরে গিয়ে ফ্রি স্যানিটারি প্যাড দিয়ে আসুক। পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এই কাজটি করতে পারে। মেয়েদের ইস্কুল কলেজেও ফ্রি বিতরণ করা যায়।

তসলিমা নাসরিন আরও জানিয়েছেন যে মিলিটারিরাও খামোকা বসে না থেকে হেলিকপ্টার থেকে অজ গাঁ গুলোয় প্যাড ফেলে আসতে পারে। সারা দেশের মেয়েদের দরকারি স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করার খরচ তো এক আজাইরা সাবমেরিনের খরচের ধারে কাছেও আসবে না। তাহলে?