নয়াদিল্লি: রাজ্যের দুই মুখ্যমন্ত্রীর তুলনা করলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যদিও রুচিসম্পন্ন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এগিয়ে রাখলেন বর্তমানের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে।

কলকাতা শহর জুড়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সমগ্র নন্দন চত্বর জুড়ে ছেয়ে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক অনীক দত্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, “সিনেমা পরিচালক বা প্রযোজকের নয়। নন্দন জুড়ে যার ছবি রয়েছে, সিনেমা শুধু তাঁর।”

পরিচালক অনীক দত্তের এই মন্তব্যের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন তসলিমা। একই সঙ্গে টেনে এনেছেন প্রাক্তন ম্মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ। তসলিমার মতে, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বোকা ছিলেন, বুদ্ধু ছিলেন, শয়তানও ছিলেন তা না হলে আমাকে রাজ্য থেকে তাড়িয়েছেন কেন। এমন লোকও কিন্তু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের পোস্টারগুলোয় নিজের ছবি দিয়ে ভরে ফেলতেন না। তাঁরও মিনিমাম রুচিটা ছিল।”

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসনের পরে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন তসলিমা নাসরিন। কিন্তু ২০০৭ সালে তা নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। যার কারণে কলকাতা শহরও তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে হয়। সেই দুঃখ বহুবার ফুটে উঠেছে তসলিমার লেখায়। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ত সরকার। যার মুখ্যমন্ত্রি ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

এতকিছুর পরেও বুদ্ধবাবুকে মমতার থেকে এগিয়ে রাখলেন তসলিমা। তিনি বলেছেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রুচি কতটা নিম্ন মানের হলে তিনি চলচ্চিত্র উৎসব ভরে ফেলেন নিজের ছবিতে! কলকাতায় রবীন্দ্র জয়ন্তী হচ্ছে, নজরুল জয়ন্তী হচ্ছে, সবই মমতাময়। যেন সারাবছর মমতা জয়ন্তী চলে কলকাতা জুড়ে।” একই সঙ্গে তিনি রাও বলেছেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায় — যিনি গান না জানলেও গান করেন, কবিতা লিখতে না জানলেও কবিতা লেখেন, ছবি আঁকতে না জানলেও ছবি আঁকেন, নিজের সম্পর্কে তাঁর অতি উচ্চ ধারণা মানুষকে বিষ্মিত করে নিশ্চয়ই।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতার রুচি ভিন্ন হতেই পারে এবং তা কটুক্তি করতে চান না বলে দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন। তবে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বিষ্যটি সমর্থন করে যাওয়ার জন্য প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রগতিশীল রুচিশীল মানুষকে বরং ভৎসর্ণা করতে চাই, তাঁরা সব জেনেও কেন চুপচাপ বসে থাকেন! ভয়ে চুপ থাকেন, অথবা নির্ঝঞ্ঝাট জীবনের আশায় চুপ থাকেন, অথবা সুবিধে পাওয়ার আশায় চুপ থাকেন। চুপ থাকতে থাকতে পশ্চিমবঙ্গের চেহারা চরিত্রই বদলে যাচ্ছে। একে আর প্রগতিশীল ট্যাগ লাগিয়ে লজ্জা দেওয়া উচিত নয়।”