নয়াদিল্লি: শনিবারই ঘোষণা হয়েছে রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার রায়। রায় অনুযায়ী, অযোধ্যার বিতর্কিত জমি দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের। সেখানে তৈরি হবে মন্দির। আর অন্য জায়গায় ৫ একর জমি দেওয়া হবে মুসলিমদের। এই রায় বেরনোর পর ট্যুইটারে প্রতিক্রিয়া দিলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা।

জন্মসূত্রে বাংলাদেশি লেখিকা বিতর্কের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই সে দেশ থেকে নির্বাসিত। বর্তমানে ভারতে থাকেন তিনি। বিভিন্ন ইস্যুতেই মুখ খোলেন তসলিমা। এবারও সরব তিনি। তাঁর দাবি, কেন ৫ একর জমি দেওয়া হল মুসলিমদের।

অযোধ্যা মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর পরপর দুটি ট্যুইট করেছেন তসলিমা। প্রথমটিতে লিখেছেন, ‘আমি যদি বিচারপতি হতাম, তাহলে ২.৭৭ একর জমি সরকারকে দিতাম, যাতে সেখানে একটা আধুনিক সায়েন্সের স্কুল তৈরি করা যায়। আর ৫ একর জমিও সরকারকে দিতাম, যাতে সেখানে আধুনিক ব্যবস্থাসম্পন্ন হাসপাতাল করা সম্ভব হয় আর রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পায়।’

রায় অনুযায়ী, অযোধ্যায় বিতর্কিত জমি পাবে রাম মন্দির পক্ষ। অর্থাৎ যে জমিতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল সেখানেই হবে রাম মন্দির। ২.৭৭ একরের সেই বিতর্কিত জমি হিন্দুদের দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে এই রায়ে। বলা হয়েছে বাবরি মসজিদ কোনও ফাঁকা জমিতে তৈরি হয়নি। আগে কোনও নির্মাণ ছিল ওই জমিতে। তবে ঠিক কি ছিল, সেটা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে জানাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

কিন্তু তৈরি হবে মসজিদও। বিতর্কিত জমিতে নয়। অন্য জমিতে মসজিদ তৈরি করা হবে। সেই জমি কোথায়, তা জানানো হয়নি তবে তাদের জন্য ৫ একর অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে নির্মোহী আখড়া সেবায়েত নয়। তাদের ট্রাস্টের সদস্য করার কথা বলা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর, ট্যুইট করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় কারও হার বা জিত নয়। রাম ভক্তি হোক বা রহিম ভক্তি, আমাদের দেশভক্তি-র উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। সব জায়গায় যাতে শান্তি বজায় থাকে, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ১৩০ কোটি ভারতবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।