কলকাতা:  লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল রাজ্যের সমস্ত মন্দির। বন্ধ ছিল তারাপীঠও। কিন্তু সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শর্তসাপেক্ষে মন্দির খোলার কথা বলেছেন। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে খোলা যেতে পারে বলে নির্দেশ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বলার পরেই বাংলার বহু মন্দির এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে ধীরে ধীরে সমস্ত মন্দির খুলে যাবে বলে আশ্বাস। খোলা হবে তারাপীঠও। তবে আগের মতো নিয়ম এবার আর থাকবে না।

নয়া নিয়ম অনুযায়ী, এবার আর গর্ভগৃহে ঢুকে মা তারাকে স্পর্শ করে অঞ্জলি ও পুজো নিবেদন করতে পারবেন না পুণ্যার্থীরা। তবে, গর্ভগৃহের বাইরে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকলেই যাতে মায়ের দর্শন পান সেই ব্যবস্থা রাখছে মন্দির কমিটি। মূলত করোনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। তবে পাকাপাকিভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মন্দিরের পুরানো নিয়মেই ফিরে আসা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কমিটির তরফে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এখনই মন্দির খোলা হচ্ছে না। ১৪জুন ফের বৈঠকে বসে মন্দির খোলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। তবে, ১৫জুন মন্দির খুললেও সংক্রমণ রোধে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। করোনার মারাত্মক চেহারা নেওয়ার আগে পর্যন্ত মন্দিরের একেবারে গর্ভগৃহে যেতে পারতেন ভক্তরা।

আর সেখানে গিয়ে সিঁদুর, মালা পরিয়ে অঞ্জলি ও পুজো নিবেদন করার জন্য ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। এবার সেই নিয়মেই বদল আনল মন্দির প্রশাসন। তারাময়বাবু বাংলা ওই দৈনিককে জানিয়েছেন, আগামী ১৫জুন মন্দির খুলতে পারে। কিন্তু মন্দির খোলা হলেও পুণ্যার্থী, সেবাইত সকলের কথা চিন্তা করে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা রদবদল আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারাময় মুখোপাধ্যায়।

তিনি সাফ জানিয়েছেন, আপাতত পুণ্যার্থীদের মায়ের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গর্ভগৃহের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুযায়ী গণ্ডি কাটা থাকবে। ভক্তরা সেই গণ্ডিতে দাঁড়াবেন। একে একে এগিয়ে এসে মাকে দর্শন করে বাইরে রাখা মায়ের পিতলের চরণে প্রণাম করে চলে যাবেন

ফাইল ছবি

শুধুমাত্র সেবাইতরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করে পুজোর ডালা মায়ের কাছে নিবেদন করে নিয়ে এসে মন্দির চত্বরের নির্দিষ্ট জায়গায় ভক্তদের বসিয়ে অঞ্জলি পাঠ ও প্রসাদ তুলে দেবেন। শুধু মন্দিরে ঢোকার ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ নিয়ম মানতে হবে। সমস্ত ভক্তের থার্মাল স্ক্রিনিং হবে। মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না মন্দিরে। এছাড়া স্যানিটাইজারের ব্যবহার সহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির প্রশাসন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।